স্পোর্টস রিপোর্টার
গত বছর ব্যাঙ্গালোরে বিসিবি একাদশের হয়ে মিনি রঞ্জি ট্রফি খেলতে গিয়েছিলেন সাদমান ইসলাম। এক ম্যাচ আগেই তাকে ফিরতে হয়েছিল কব্জির ইনজুরি নিয়ে। সম্প্রতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তার কব্জির ইনজুরি। যার কারণে পাকিস্তান সফরের টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে কাঁধের ইনজুরি নিয়ে ফিরেছেন পেস বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। সাদমান ও মৃত্যুঞ্জয়—এ দুই ক্রিকেটারের ইনজুরি নিয়ে চিন্তায় আছে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। উন্নত চিকিত্সার জন্য তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করছে বিসিবি। সাদমানকে হ্যান্ড সার্জন ও মৃত্যুঞ্জয়কে শোল্ডার সার্জনের কাছে পাঠানো হবে। বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুই তরুণের ইনজুরি নিয়ে গতকাল তিনি বলেছেন, ‘সাদমান ও মৃত্যুঞ্জয়কে আমরা বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করছি অস্ট্রেলিয়ায়।’ তাদেরকে পাঠানোর জন্য এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। চলতি মাসেই তাদেরকে পাঠাতে চায় বিসিবি। দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল বলেছেন,‘সব যোগাযোগ যদি আমরা ঠিকমতো করতে পারি, আশা করছি এই মাসের শেষের দিকে এই দুই জনকে আমরা হ্যান্ড সার্জন ও সোল্ডার সার্জনের কাছে পাঠাতে পারবো।’
এই দুই জনের ইনজুরি নিয়ে চিন্তায় আছে বিসিবির চিকিত্সকরা। গতকাল বিসিবির প্রধান চিকিত্সক বলেছেন, ‘দুটো ইনজুরির ব্যাপারে আমরা বেশ চিন্তায় ছিলাম। একটা হচ্ছে সাদমানের কব্জি ইনজুরি ও মৃত্যুঞ্জয়ের কাঁধের ইনজুরি। মৃত্যুঞ্জয় কাঁধের ইনজুরির জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে ফিরে এসেছে এবং খুবই প্রতিভাবান ও উদীয়মান প্লেয়ার। ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাদমান ও মৃত্যুঞ্জয় দুই জনকেই উন্নত চিকিত্সার জন্য যদি প্রয়োজন হয় আমরা যেন অস্ট্রেলিয়াতে যোগাযোগ করি। সে অনুযায়ী আমরা যোগাযোগও শুরু করেছি।’
ফিটনেস পরীক্ষায় পাশ মুশফিক-ইমরুল
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে পাকিস্তান সফরে টি-২০, টেস্ট দলে বিবেচিত হননি ইমরুল কায়েস। ইনজুরি কাটিয়ে ব্যাটিংয়ে ফিরেছেন তিনি। নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়ে পাকিস্তান সফর থেকে সরে দাঁড়ানো মুশফিকুর রহিমও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছিলেন। সম্প্রতি ব্যাটিং শুরু করেছেন তিনি। দুই জনই গতকাল ফিটনেস পরীক্ষায় পাশ করেছেন। তাদের ইনজুরি নিয়ে বিসিবির প্রধান চিকিত্সক বলেছেন, ‘ওদের হ্যামস্ট্রিং এবং কাপ ম্যাসেলের সমস্যা নিয়ে কিছুদিন ইনজুরিতে ছিল। এর মধ্যে ওদের রিহ্যাব প্রক্রিয়াও চলছিল। তবে মুশফিকের ইনজুরি গ্রেড ওয়ান হওয়াতে আমরা আশা করছিলাম ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ও সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু ইমরুলের ইনজুরিতে আমাদের ধারণা ছিল আরেকটু বেশি সময় লাগতে পারে, সপ্তাহ খানেক।’
ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করায় মুশফিক-ইমরুলের খেলতে আর বাধা নেই। দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন,‘আজকে (গতকাল) ওদের দুই জনেরই টেস্ট হলো আমাদের ফিজিওথেরাপিস্ট এবং ট্রেনারদের তত্ত্বাবধানে। খুবই সন্তোষজনকভাবে ওরা টেস্টে উতরে গেছে। এবং দুই জনই আপাতত খেলার জন্য ফিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তো এর পরবর্তী খেলাগুলোয় ওদের অংশগ্রহণে আর কোনো বাধা থাকবে না।’
পায়ের ইনজুরি কাটিয়ে উঠলেও নতুন করে সাইড স্ট্রেইনের ব্যথায় ভুগছেন পেসার খালেদ আহমেদ। বিসিবির প্রধান চিকিত্সকের মতে, চলতি মাসের শেষ দিকে পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাবেন খালেদ।
