আলোকপাত
জাহাঙ্গীর কবির
অনেকে দিন ধরেই দেশে মাদক-সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিজান চলছে। এর পরও গ্রামগঞ্জে স্থানীয় অসাধু ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য কমছে না। এরা সমাজবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাদের অপরাধ বিস্তারে সমাজ কলুষিত হচ্ছে। দুষ্ট প্রকৃতির এসব ব্যক্তি গ্রামের অসহায় নিরীহ লোকদের অযথা বিচার-সালিশের নামে হয়রানি ও উেকাচ গ্রহণ করে। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে অসদুপায় অবলম্বন করে অর্থ উপার্জনে লিপ্ত থাকে। এরা সোজা পথে রোজগার করে না। এদের চক্রান্তে গ্রামে লোকদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী পক্ষ সৃষ্টি হয় এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিসহ হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
এসব অসাধু ব্যক্তি বেআইনিভাবে জায়গা-জমি উদ্ধারের নামে টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়। কখনো কখনো গ্রামের নিরীহ মানুষকে বেকায়দায় ফেলে হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে বিপদে ফেলে। সমস্যার প্যাঁচে ফেলে জটিলতার সৃষ্টি করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়ায় গ্রামের লোকেরাও পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে শুরু করেছে। কিন্তু সেখানেও এই দুষ্টচক্রের থাবার হাত থেমে নেই। অন্যায়ভাবে তারা নির্মাণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও উেকাচ গ্রহণ করে। এদের মাস্তানি আচরণে গ্রামের সাধারণ মানুষ ভয়ে থাকে। কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। এদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে অপমান-অপদস্ত হতে হয়। হাটবাজারগুলো এদের অপকর্মের প্রধান আখড়া। অন্যের ছোটোখাটো দোষ-ত্রুটিকে পুঁজি করে বিচার-সালিশের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে এবং অন্যের সম্পদ জবরদখল করা এদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। নিরীহ মানুষ এদের অত্যাচার থেকে মুক্তি চায়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রামে জায়গা-জমির ভেজাল সৃষ্টি করে সহজ-সরল মানুষকে বেকায়দায় ফেলে হেনস্তা করে নিজেদের পকেট ভারী করে। এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা পাতিনেতা দাবি করে দোর্দ্ল প্রতাপ খাটায়। রাজনৈতিক পরিচয়ে সকালে এক রং, বিকেলে আরেক রং ধারণ করে। আগে অন্য দলে থাকলেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের অনুসরণ করে নতুন দুষ্টচক্র ও অপশক্তির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন এদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর জানার চেষ্টা করলে সহজেই তাদের চিহ্নিত করতে পারবে বলে আশা করি।
উল্লেখ্য, চলমান শুদ্ধি অভিজানের অংশ হিসেবে এদের চিহ্নিত করতে এবং দমাতে না পারলে গ্রামগঞ্জ রাষ্ট্রের অংশ হলেও শুদ্ধি অভিযানের সুফল থেকে গ্রামের নিরীহ মানুষ বঞ্চিত থাকবে এবং গোড়ায় গলদ রয়ে যাবে। এসব দুষ্ট লোকের দৌরাত্ম্য যেমন অনেক স্থানে আছে; তেমনি শরীয়তপুর জেলার সখীপুর থানাধীন চরতারাবুনিয়া, চরসেনসাস গ্রামসহ আশপাশের গ্রামে বিদ্যমান আছে। ক্ষমতার দাপটে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এরা তোয়াক্কা করে না। এদের থেকে নিরীহ গ্রামবাসী মুক্তি চায়। বর্তমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রামের এসব দুষ্ট লোকের নজরে আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রশাসন এদের নজরদারিতে রাখলে গ্রামগঞ্জে খুনখারাবি, অন্যায় অবৈধ কার্যকলাপ হ্রাস পাবে। বেকার, ধান্দাবাজ, মাস্তান, মাদকসেবী, দালাল ও অসাধু শ্রেণির লোকেরা ভালো কর্মের সন্ধান করবে। এদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর থাকলে গ্রামের সাধারণ মানুষ সুখ-শান্তিতে বসবাস করবে এবং স্বচ্ছ পরিবেশ বিরাজ করবে। খোলা চোখ এমনটাই বলছে।
n লেখক : কবি ও প্রবন্ধকার
