বিজয়ী দুই মেয়র সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বাকিটা জাল :ড. কামাল

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২৭

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ঢাকার দুই সিটিতে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী যত ভোটে বিজয়ী হয়েছেন, তার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বাদে বাকিটা ‘জাল ভোট’। তিনি গতকাল মঙ্গলবার তার মতিঝিলের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন।

ড. কামাল বলেন, নির্বাচিত মেয়ররা মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ মানুষের রায় পেয়েছেন। বাকি ফলাফল ইভিএমের জাল ভোট। বর্তমান সরকারের আমলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এই সরকার চায় ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না যাক, তারা ভোটারদের ভয় পায়। সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন-প্রক্রিয়ার ওপর বাংলাদেশের জনগণ ও যুবসমাজ অনাস্থা প্রকাশ করেছে। জনগণ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অর্থ—তারা মনে করে তাদের ভোটে এই সরকারের পরিবর্তন হবে না। এটা দেশ ও জাতির জন্য একটা অশনিসংকেত।

বিজয়ী দুই মেয়রকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে মেয়র’ বলা যাবে কি না—সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, তাদেরকে এটা মোটেই বলা যাবে না। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্বহীনভাবে সংবিধানের পরিপন্থি কাজ করে গোটা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে  ফেলেছে। যার ফলে এই ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। জনগণকে নিয়ে আমাদেরকে পরিবর্তন আনতে হবে। এদেশের মানুষ সচেতন, তারা কখনো স্বৈরতন্ত্রকে গ্রহণ করেনি, এখনো করবে না।

শনিবার প্রতিবাদ সভা :বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারে দুই বছরপূর্তিতে তার মুক্তির দাবিতে আগামী শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির    সামনে প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি নিয়েছে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি।

প্রশ্নের মুখে ফ্রন্ট নেতারা

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অনেকেই প্রশ্ন করে বলেন, বৈঠক-সভা-সংবাদ সম্মেলন ছাড়া রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির মতো কোনোকিছু ঐক্যফ্রন্টের দেখা যায় না। জনগণের ওপরই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া এবং জোট ব্যর্থ কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্রন্ট নেতারা বলেন, জনগণই এগিয়ে আসবে। এসময় ড. কামাল বলেন, জনগণের ওপর ভর করেই রাজনীতি। শক্তি জনগণের। তাদের উত্সাহী করতে আমাদের করণীয় অবশ্যই করে যাব। সভা, মিছিল, মিটিং সবই হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে, পরিবর্তন এনেছে। তার ব্যতিক্রম হবে না। জনগণের মধ্যে একটা ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। জনগণ এগিয়ে আসবে। সরকার যা চাচ্ছে, তা করতে পারবে না।

একই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমরা জনগণের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিইনি। জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। সে কারণেই আমরা জনগণের ওপর আস্থা  রেখেছি। কিন্তু সরকার জনগণের আস্থা কেড়ে নিয়েছে, ভোট কেড়ে নিয়েছে। আমরা জনগণকে দায়িত্ব দিয়েছি। আমরা জনগণের কাতারে আছি। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করে।

মানুষের মুক্তির জন্য ঐক্যফ্রন্ট কি করছে? এমন প্রশ্নে কামাল হোসেন বলেন, আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। আমরা বলে যাচ্ছি। সরকার দায়িত্বহীনভাবে সংবিধানের পরিপন্থি কাজ করে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ধ্বংস করেছে। আমি তো আশা করি, মানুষ একদিন অসহ্য হয়ে এর পরিবর্তন আনবে। জনগণ কি আপনাদের সঙ্গে আছে, প্রশ্ন করা হলে মঈন খান বলেন, জনগণ পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আমাদের সঙ্গে ছিল। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখন থেকে আমাদেরকে মাঠে দেখা যাবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপনারা কি যথাযথ কর্মসূচি দিতে পারছেন? এর জবাবে জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে নির্দেশনা দেওয়া। কার্যকর করবে জনগণ।

ড. কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সু্ব্রত চৌধুরী, শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন, মোশতাক হোসেন, মহসিন রশিদ, শহীদুল্লাহ কায়সার, নুরুল আমিন ব্যাপারী, শাহ আহমেদ বাদল,  জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।