অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে পা বাড়াবে বাংলাদেশ --------- মাহবুব তালুকদার

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২৭

নির্বাচন ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, সেই অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সকল রাজনৈতিক দল আলোচনার টেবিলে বসে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে পারে। তা না হলে অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে পা বাড়াবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সার্বিক পর্যালোচনা করে নির্বাচনোত্তর অবস্থা সম্পর্কে এই মন্তব্য করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ কি?  আমাদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনবিমুখতা গণতন্ত্রহীনতার নামান্তর। এই নির্বাচনে ভোটের প্রতি জনগণের অনীহা দেখে মনে প্রশ্ন জাগে, জাতি কি ক্রমান্বয়ে গণতন্ত্রহীনতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

মাহবুব তালুকদার বলেন, ভোটকেন্দ্রে বিরোধীপক্ষের দৃশ্যমান অনুপস্থিতি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত যেভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তাতে আচরণবিধি রাখা না-রাখা সমান। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো যাচাইয়ের কোনো লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়নি।

তিনি বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অস্বাভাবিক কম ভোট পড়া আমার কাছে স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হতে পারে, কিন্তু এটাই বাস্তবচিত্র।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রয়োজন, কোনো কোনো বিজ্ঞজন এমন বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু গণতন্ত্র আপন মহিমায় বিকশিত ও উদ্ভাসিত হতে পারে, যদি অবাঞ্ছিত উপায়ে তাকে বন্দি করা না হয়।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ঐ ভোটে ঢাকার ৫৪ লাখ ভোটারের মধ্যে মাত্র ১৪ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।