ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা

বরিশালে হল সুপার সাসপেন্ড, চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২৯

বরিশালে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসির প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের হল সুপার সাময়িক বরখাস্ত এবং চার জন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন গতকাল মঙ্গলবার এ পদক্ষেপ নেয়। একই সঙ্গে ঐ ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। দুটি কমিটিকে পরবর্তী পাঁচ ও তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্তকৃত হল সুপার হলেন হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম। আর পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন ঐ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাসুদা বেগম ও মো. সাইদুজ্জামান এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শাহানাজ পারভীন শিমু ও শেখ জেবুন্নেছা। এদের মধ্যে শেখ জেবুন্নেছা ও মাসুদা বেগম এমপিওভুক্ত এবং শাহনাজা পারভীন শিমু ও মো. সাইদুজ্জামান খণ্ডকালীন শিক্ষক বলে স্কুল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস জানান, হালিমা খাতুন কেন্দ্রে ক্যাজুয়াল পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্রের চারটি প্যাকেট পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রে দুটি প্যাকেট খোলা হয়েছে, বাকি দুটি প্যাকেট অক্ষত রয়েছে। সে হিসেবে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়া পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা কোনোভাবেই ৪০ জনের বেশি হবে না।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয় রহমান বলেন, এসএসসি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। স্পর্শকাতর পরীক্ষা গ্রহণে সংশ্লিস্ট হল সুপার এবং ঐ কক্ষের চার পরিদর্শক দায়িত্বে অবহেলা, গাফিলতি এবং খামখেয়ালি করেছেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুটি কক্ষে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ী ক্যাজুয়াল পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি ধরা পড়লে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়া কোনো শিক্ষার্থী যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সেই প্রতিশ্রুতি দেন।