শীতের সন্ধ্যায় আড্ডার আমেজ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৪

বিকাল গড়াতে ঠান্ডা হিমেল স্পর্শ। হই-হট্টগোলের বদলে শান্ত ছিমছাম পরিবেশ টিএসসি থেকে বাংলা একাডেমির পথে। স্নিগ্ধতা ঘিরে রেখেছে চারপাশ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেকটা অংশ এবার মেলা চত্বরে নিয়ে নেওয়ায় মেলা হয়ে উঠেছে আরো ছিমছাম, সুন্দর। বদলে যাওয়া বইমেলায় এই শান্ত স্নিগ্ধ উদ্যান আমন্ত্রণ জানাচ্ছে প্রাণের উত্সবে মেতে উঠবার আমন্ত্রণ। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মেলায় পাঠকদের আনাগোনা বেশ ভালো। প্রকাশক, আয়োজকরা এই পাঠক সমাগম দেখে দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে স্বস্তির হাসি হেসেছেন।

মেলা পুরো জমে উঠেছে এটা বলা যাবে না। কিন্তু এই বিকালের পরে মেলা জমে উঠছে ভালোই। যারা বইয়ের গন্ধ ভালোবাসেন, ভালোবাসেন পড়তে তারা ঠিকই এসেছিলেন মেলায়। বিকালে মেলা ঠিকই জমে উঠেছিল। শিশু-কিশোররা যেমন এসেছে মা-বাবার সঙ্গে, তেমনি যুবক-যুবতিরাও বইয়ের স্টলে ঘুরে ঘুরে খুঁজে নিয়েছিলেন প্রিয় লেখকের বই।

শীতের আমেজে মেলায় ঘুরেফিরে বেড়ানো, আড্ডা দেবার জন্যেও বেশ সুন্দর খোলামেলা জায়গা রয়েছে। বন্ধুদের দলে দলে আড্ডা জমে উঠেছে মেলার ফাঁকা স্থানগুলোতে। চলেছে বই নিয়ে আলোচনা। কিছু কিছু স্টলের সামনে পাঠকদের ভিড়ও জমে উঠেছিল। নতুন বই ও মোড়কের ছটায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল স্টলগুলো। মেলায় কথা হয় রুবাইয়াত রহমানের সঙ্গে। হাতে কিছু বইয়ের ব্যাগ নিয়ে ঘোরা এই পাঠক বললেন, মেলার এই সময়টা বেশ ফাঁকা থাকে। ফলে স্টলে ভিড় কম থাকায় সময় নিয়ে দেখে বই কেনা যায়। যেহেতু বই কিনতে আসি মেলায় প্রথমদিকেই চলে এলাম। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটোগল্প, সৈয়দ শামসুল হকের জলেশ্বরী সমগ্র কিনছেন তিনি। বললেন, মেলার পরিসর বাড়লেও স্টল খুঁজে নেবার কোনো নির্দেশনা না থাকায় একটু অসুবিধা হচ্ছে।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী মেলার তৃতীয় দিনে নতুন বই এসেছে ৮১টি। এর মধ্যে উপন্যাসগ্রন্থ এসেছে ১৮টি। গল্পগ্রন্থ চারটি, প্রবন্ধ তিনটি, কাব্যগ্রন্থ ১৯টি, ছড়ার বই একটি, শিশুসাহিত্য তিনটি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই সাতটি, নাট্যবিষয়ক একটি, বিজ্ঞানবিষয়ক দুটি, ইতিহাসবিষয়ক একটি, রাজনীতিবিষয়ক একটি, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক সাতটি, রম্যবিষয়ক তিনটি, অনুবাদ দুটি, সায়েন্সফিকশন দুটি এবং অন্যান্য বিষয়ের বই বেরিয়েছে ছয়টি। গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঞ্জেরী থেকে এসেছে আলম তালুকদারের শিশুতোষ গ্রন্থ ‘রূপকথার আজব কথা’, মারুফ রসূলের উপন্যাস ‘কাঙ্ক্ষিত খসড়া’। বাংলা একাডেমি থেকে বেরিয়েছে হারুন-অর-রশিদের ‘বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব কি ও কেন’। আগামী থেকে বেরিয়েছে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর বঙ্গবন্ধুবিষয়ক বই ‘গান্ধীর দর্শন ও শেখ মুজিবের রাজনীতি’ ও রফিকুল ইসলামের ‘মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র’। অবসর থেকে এসেছে ইমরান কায়েসের উপন্যাস ‘জন্মান্তর’।