বইমেলা হোক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৫

বাংলা একা-ডেমির বইমেলা এখন একইসঙ্গে জ্ঞানের মেলা এবং মানবিক ও সৃজনশীলতার জাতীয় উত্সব। মেলা শুরু হলো এবার একদিন পরে দোসরা ফেব্রুয়ারি। এই ব্যতিক্রম করতে হয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কারণে। বইমেলার আনন্দময় তার সঙ্গে সঙ্গে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও আনন্দময় উত্সবও বটে। এ দুইটিই আমাদের জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের বইমেলাটি আরো বড়ো আয়োজনে এবং বিশাল ব্যাপ্তিতে শুরু হয়েছে।           এর আগে কখনো মেলা এত বড়ো পরিসর নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। স্টলের সংখ্যাও সঙ্গত কারণেই অনেক বেশি। মেলার পরিসর এবং স্টল সংখ্যা বৃদ্ধি আমাদের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে সবারই উত্সাহ-উদ্দীপনার পরিচয় বহন করে। সেইসঙ্গে এই মেলা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার কতটা গভীরতার প্রকাশক বা সাধারণ মানুষের পাঠতৃষ্ণার পরিচয় বহন করে সেটি আমরা এ মুহূর্তে বলতে পারব না। এ বিষয়ে সমীক্ষা এবং গবেষণা জরুরি বলে আমরা মনে করি। বইমেলা তো শুধু বাণিজ্য মেলার মতো ক্রয়-বিক্রয় এবং লাভ-লোকসানের ব্যাপার না। বইমেলা যদি আমাদের মানসিক এবং চিন্তার জগেক ধীরে ধীরে প্রসারিত করতে না পারে বা নানামাত্রিক জ্ঞানালোকের পাদপীঠ না হয়ে ওঠে তাহলে বইমেলা কিন্তু শুধুই বই বেচাকেনার বিষয়ে পরিগণিত হবে। তবে আশার কথা, আমাদের তরুণেরা আমাদের শিশুরা যেভাবে বইমেলায় আসছে বই দেখছে এবং বই কিনছে সেটা বেশ আশাব্যঞ্জক। আমরা কলকাতা বইমেলায় দেখেছি সেখানে বিপুলসংখ্যক তরুণ আসে আড্ডা দেয়। নানারকম খাদ্যদ্রব্যের দোকানে বসে খাওয়া-দাওয়া করে এবং আলোচনা গল্পে মেতে ওঠে। বই কেনা সে তুলনায় অনেক কম। সেদিক থেকে আমাদের মেলাটি অনেক বেশি তাত্পর্য বহন করে বলে মনে হয়।