অতিরিক্ত কোচিং ফি না দেওয়ায় অর্ধশত শিক্ষার্থীকে পেটালেন কলেজ অধ্যক্ষ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৬

রংপুর কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

রংপুরে কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্ধশত শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।  কলেজে কোচিংয়ের জন্য অতিরিক্ত টাকা না দেয়ায় শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করেন অধ্যক্ষ। জানা গেছে, এইচএসসির মডেল টেস্ট পরীক্ষার সময় শ্রেণি কক্ষে অধ্যক্ষ নিজে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের জন্য অতিরিক্ত টাকার দেয়ার জন্য চাপ দেন। এতে কিছু শিক্ষার্থী আপত্তি তুললে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বেধড়ক পেটান অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া। এঘটনার প্রতিবাদে সোমবার শিক্ষার্থীরা কলেজে বিক্ষোভ করে। ফরম পূরণ ও কোচিংয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির তদন্তের দাবি জানান তারা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের জানান, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে সাড়ে ৭ হাজার করে টাকা নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই সাথে ২৪ মাসের বকেয়া বেতনও আদায় করেন।  নতুন করে বিনা নোটিশে ৩৪৩ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর কাছে ১৭০০ টাকা দাবি করেন অধ্যক্ষ। হুমকি দেন টাকা না দিলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর দিবেন না। এর প্রতিবাদ করে অনেক পরীক্ষার্থী কলেজে মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় গত শনিবার ও রোববার শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করেন অধ্যক্ষ। এদিকে সাংবাদিকদের এসব জানানোর কারণে শিক্ষকরা ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।   

মারধরের শিকার ফায়েক হাসান,      নিমি ইসলাম, লিমন হাসানসহ কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, দুই বছর আগে ২০ শিক্ষার্থীকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। তখন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত টিম হলেও পরে আর কিছুই হয়নি।

এদিকে সাপ্তাহিক পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট বাবদ অতিরিক্ত টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ আবদুল ওয়াহেদ। তিনি বলেন, আমি কাউকে বেত্রাঘাত করিনি। কিছু শিক্ষার্থী প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় অংশ না নেয়ায় তাদের বকা দিয়েছি মাত্র।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মো: আখতারুজ্জামান বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের কোনভাবেই শারীরিক নির্যাতন করতে পারে না। যদি এমনটি হয়ে তাদের এরজন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।