ভারত জুড়ে এনআরসির সিদ্ধান্ত হয়নি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:৪২

ভারত জুড়ে এখনই জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণ বা এনআরসি করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে লোকসভার অধিবেশনে স্পষ্ট জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। গতকাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে এনআরসি প্রস্তুত করার বিষয়ে সরকার কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। খবর এনডিটিভির

লোকসভায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক রাজ্যেরই এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আমরা বিজেপি এবং অ-বিজেপি, সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছি এবং তাদের আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা করে চলেছি। তাই সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করারও চেষ্টা করছি আমরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগেও আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে দেশ জুড়ে এনআরসি চালু হওয়া নিয়ে কোনো আলোচনায় হয়নি।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি ভারতের ১৩০ কোটি নাগরিককে বলতে চাই যে, আমার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অর্থাত্ ২০১৪ সাল থেকে এনআরসি গোটা দেশে প্রয়োগ করা নিয়ে কোথাও আলোচনা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরেই আসামে এনআরসি করা হয়, বলেন তিনি। যদিও এর আগে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন যে গোটা দেশেই এনআরসি প্রয়োগ হবে। কিন্তু তারপরই প্রধানমন্ত্রীর ঐ আশ্বাস নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় সাধারণ মানুষের মনে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস সম্পর্কে বার্তা সংস্থা এএনআইকে অমিত শাহ বলেন, এখনই এই (প্যান-ইন্ডিয়া এনআরসি) নিয়ে কোনো উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী মোদি ঠিকই বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো মন্ত্রিপরিষদ বা পার্লামেন্টে কোনো আলোচনা হয়নি।

লোকসভায় দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এই স্পষ্ট বিবৃতি জারির পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, গত ২ মাস ধরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণ এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশ জুড়ে চলা ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। পাশাপাশি দেশের অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীদের আশ্বস্ত করতেও ঐ ঘোষণা করল মোদি সরকার, এমনটাও মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশ জুড়ে এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার, আর তাই কিছুটা ধীরে চলো সূত্রেই এগোতে চাইছে তারা। গত শুক্রবার থেকে পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশনের সূচনা হয়।