‘ভুবন মাঝি’ খ্যাত নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন খানের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘গণ্ডি’ মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। প্রথমবারের মতো জুটি হয়ে এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন দুই বাংলার নন্দিত দুই তারকা সুবর্ণা মুস্তাফা ও ফেলুদা খ্যাত অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। এই ছবির গল্প ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ
রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার চলচ্চিত্র ‘গণ্ডি’। এই ছবিটি মূলত ৫৫ ও ৬৫ বছর বয়সী দুজন নারী-পুরুষের গল্প নিয়ে। অবসরে থাকা এই বয়সে দুজন নারী-পুরুষের বন্ধুত্ব কেমন হয়, পরিবার ও আশপাশের মানুষ বিষয়টিকে কীভাবে নেয়, সেই চিত্রই উঠে আসবে চলচ্চিত্রটিতে। গল্প প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছি, তার প্রতিটিই ছিল গল্প বেইজ। কারণ আমরা বিশ্বাস করি একটি ছবির প্রাণ গল্প। পাশাপাশি যে গল্পগুলোর মধ্যে একটা ইউনিভার্স মেসেজ থাকে, যা পৃথিবীর সব দেশের সব ভাষার মানুষরা বুঝতে পারেন। একটু উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে, আমাদের আগের ছবি ‘ভুবন মাঝি’তে চেষ্টা করেছিলাম এমন একজন মানুষের গল্প বলতে—যে মানুষটি যুদ্ধ পছন্দ করে না। কিন্তু একটা সময় মানবিক কারণে তাকে যুদ্ধে যেতে হয়। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় জায়গা হলো মানবিকতা। আর এবারে বেছে নিয়েছি ‘বন্ধুত্ব’। আমরা মনে করি বন্ধুত্বের কোনো গণ্ডি নেই। মানুষের সঙ্গে মানুষের যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়, তা আমরা নানান রকমের বৃত্ত বা গণ্ডির মধ্যে বেঁধে ফেলি, যা আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের মধ্যে পড়ে না। আমাদের দেশে প্রচলিত একটা ধারণা আছে, নির্দিষ্ট সময়ের পর বিপরীত লিঙ্গের কোনো মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব হতে পারে না, বা হলেও তা খুব বেশি হবে না। যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত না। এই ছবির মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি, বন্ধুত্ব যে কোনো সময় যে কোনো বয়সের মানুষের সঙ্গেই হতে পারে।
ছবিটিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী ও সুবর্ণা মুস্তাফা। এছাড়াও আছেন শুভাশীষভৌমিক, মাজনুন মিজান, অপর্ণা ঘোষ, আমান রেজা, পশ্চিমবঙ্গের পায়েল মুখার্জিসহ আরো অনেকে। ছবিটির আবহসংগীতের পাশাপাশি ছবিতে ব্যবহূত একটি গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সংগীতব্যক্তিত্ব দেবজ্যোতি মিশ্র। ছবিটির দৃশ্যধারণ হয়েছে ঢাকা, কক্সবাজার ও লন্ডনের বেশ কয়েকটি স্থানে। মুক্তিপ্রতিক্ষীত ছবির প্রত্যাশা প্রসঙ্গে সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেন, ‘ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সবকিছু বিবেচনা করলে বোঝা যায়, বেশ ভালো একটি চলচ্চিত্র হবে। পাশাপাশি এই ছবিতে আমার সহশিল্পী হিসেবে আমি পেয়েছি বাংলাদেশের গুণী অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে। ভালো গল্পের এই ছবিটি নিয়ে আমি আশাবাদী’।
নন্দিত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘ছবিটির বিষয় বৈচিত্র্য ভালো। পাশাপাশি একদল তরুণ এই ছবির পেছনে কাজ করছেন। তারা প্রত্যেকেই ছবিটির জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করছে। এমন গল্পের ছবিটি দর্শকের কাছে ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস’। আগামীকাল সারা দেশের ১৮ থেকে ২০টি হলে মুক্তি পাবে এই চলচ্চিত্রটি।
‘গণ্ডি’র প্রচারণা নিয়ে আপনারা কতটুকু এগিয়েছেন? উত্তরে এক গাল হেসে পরিচালক বলেন, ‘আসলে এই সময়ে সিনেমার প্রচারণা নিয়ে খামখেয়ালির সুযোগ নেই। একজন সচেতন প্রযোজক বা পরিচালক কখনো চাইবেন না সিনেমা প্রচারণার জন্য পিছিয়ে যাক। কারণ আমাদের দর্শক এখন অনেক ব্যস্ত। কোন সিনেমা কখন মুক্তি পাচ্ছে সেই খবর নেওয়ার সময় দর্শকদের নেই। দর্শকদের কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে। সিনেমাটি যে আসছে সেটি বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে দর্শকদের। ‘গণ্ডি’ নিয়ে আমরা বেশ ভালোভাবেই প্রচারণা করছি। ডিজিটাল প্রচারণা, আর্টিস্ট ও ডিরেক্টরের বিভিন্ন ইন্টারভিউ এ সবকিছুই নিয়মিত হয়েছে। সেইসাথে নিজের অভিনীত ছবির প্রচারণার জন্য সব্যসাচী দাদা গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় এসেছেন। মুক্তির আগ পর্যন্ত ঢাকায় ছবিটির প্রচারণার জন্য সময় দেবেন তিনি’। ‘গণ্ডি’ ছবিটি কেন দর্শক দেখবে বলে আপনি মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক ফাখরুল আরেফীন খান বলেন, এই ছবিটি দর্শক দেখবেন গল্পের কারণেই। আমরা ছবিতে একটি গল্প দেখাতে চেয়েছে। যে গল্প নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তা করি না। ঠিক তেমন একটা গল্প। দেখুন, এই সময়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা অ্যাভাটার বা অ্যাভেঞ্জারর্স-এর মতো চলচ্চিত্র দেখে। কারণ এই ধরনের গল্প তারা চিন্তাও করে না। আমরা তো আর অ্যাভেঞ্জারর্স বা এন্ডগেম বানাতে পারব না। আমাদের সেই প্রযুক্তি বা শিক্ষাও নেই। কিন্তু আমরা আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সুন্দর একটা গল্প বলতে পারব বলে বিশ্বাস করি। যে গল্প মানুষকে নাড়া দেবে। আনন্দ দেবে।’
