ইত্তেফাক রিপোর্ট
বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও যেসব গার্মেন্টস কারখানা ভবনের কাঠামো, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম। সম্প্রতি রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্কার সমন্বয় সেল (আরসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন। এ সময় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং আরসিসির কর্মকর্তারা তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। ‘তৈরি পোশাক কারখানায় সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে আরসিসি—উত্তরণের পথে’ শীর্ষক ঐ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়।
কর্মকর্তারা বলেন, সংস্কারে ব্যর্থ কারখানাগুলোকে বারবার সময় বাড়িয়ে কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হলেও তারা এটিকে পাত্তা দিচ্ছেন না। অনেক কারখানা স্থানীয় প্রভাবশালী কিংবা শ্রম অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোহাই দিয়ে এ অনিয়ম করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তারা বলেন, সংস্কারে পিছিয়ে থাকা কিছু কারখানার ইউডি বাতিলের জন্য পোশাকশিল্পের মালিকদের দুটি সংগঠনকে চিঠি দেওয়া হলেও বিকেএমইএ এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে আরসিসি, ডিআইএফইর কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলেও জানান তারা।
জবাবে সচিব বলেন, যেসব কারখানা সময়সীমা অনুযায়ী সংস্কারকাজ সম্পন্ন করবে না, তাদের আর ছাড় দেওয়া যাবে না। মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা ক্ষমতার প্রয়োগ করতে হবে। ঐ সব কারখানার গ্যাস, বিদ্যুত্সহ পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
এ সময় ডিআইএফই ও আরসিসিরও কিছু সমস্যার কথা উঠে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে হয়রানির কোনো অভিযোগ যাতে না আসে, এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শ্রমিকনেতা ফজলুল হক মন্টু, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী ও ড. জিয়াউর রহমান।
