ই-পাসপোর্ট :ডিজিটাল বাংলাদেশের আরেক ধাপ

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৪

জ্যাস্টিন গোমেজ

সাধারণ পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য হলো, এতে মোবাইল ফোনের সিমের মতো ছোট ও পাতলা আকারের ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ যুক্ত থাকবে। এই চিপ পাসপোর্টের একটি বিশেষ পাতার ভেতরে থাকবে। এই পাতা সাধারণ পাতার চেয়ে মোটা হবে। চিপে সংরক্ষিত বায়োমেট্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পাসপোর্ট বহনকারীর পরিচয় শনাক্ত করা যাবে। এতে করে একজনের নাম-পরিচয় দিয়ে অন্য নামে পাসপোর্ট কেউ করতে পারবে না। এই পাসপোর্ট নকল হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না। সাধারণ পাসপোর্টের তুলনায় ই-পাসপোর্টে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও থাকছে বেশি। এতে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে, যার অনেক বৈশিষ্ট্য থাকবে লুকানো অবস্থায়। ই-পাসপোর্ট করার সময় মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) ডেটাবেইসে পাওয়া তথ্যগুলো ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। সাধারণ পাসপোর্টের মতো ই-পাসপোর্টের আবেদনও অনলাইনে পাওয়া যাবে। চাইলে পিডিএফ ফরম ডাইনলোড করে হাতেও পূরণ করা যাবে। ফরম পূরণের সময় ছবি ও সত্যায়ন করা লাগবে না। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময় আবেদনকারীর ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের ছবি নেওয়া হবে। সেই সব তথ্য চিপে যুক্ত হবে। ইমিগ্রেশন পুলিশ বিশেষ যন্ত্রের সামনে পাসপোর্টের পাতাটি ধরতেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট যাতে একটি ইলেকট্রনিক চিপ রয়েছে। ইলেকট্রনিক চিপের মধ্যে রয়েছে বায়মেট্রিক তথ্য যা পাসপোর্টধারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ই-পাসপোর্টে ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও চোখের মনির বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। ই-পাসপোর্টে মোট ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে। আন্তর্জাতিক চলাচলের ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ভ্রমণকে আরো সহজ, ঝামেলামুক্ত ও সময় সাশ্রয়ী করবে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট । ই-পাসপোর্ট বর্তমানের বই আকারে পাসপোর্ট যেমন আছে তেমনই। শুধু পাসপোর্টের পাতার শুরুতে ব্যক্তির তথ্য নিয়ে যে দুই পাতা আছে তা থাকবে না। ব্যক্তির তথ্য পাসপোর্টেই পলিমারের তৈরি একটি চিপের মধ্যে সংরক্ষিত থাকবে। আর প্রযুক্তিগত ভাবে MRP পাসপোর্টের সাথে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য আছে। এতে আছে শনাক্তকরণ চিহ্ন, স্মার্টকার্ড প্রযুক্তির মতো মাইক্রোপ্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা। ই-পাসপোর্টের প্রতিটি পাতায় খুব সূক্ষ্ম ডিজাইনের জটিল সব জলছাপ থাকে। এই পাসপোর্টের মেয়াদ হবে বয়স ভেদে ৫ ও ১০ বছর। বর্তমানে ই-পাসপোর্টে কাগজপত্র সত্যায়নের ঘর উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। যদি কোনো আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের কম হয় তবে সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট পেতে জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) জমা দিতে হবে এবং ১৮ বছর বয়সের নিচে সব আবেদনকারীকে শুধু পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট প্রদান করা হবে। ই-পাসপোর্টের সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে ‘পাবলিক কি ডাইরেকটরি’তে (PKD)। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) এই তথ্য ভাণ্ডার পরিচালনা করে। ই-পাসপোর্ট স্ক্যান করলে ব্যক্তি পরিচয়সহ অন্যান্য তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হয়ে যায়। এই জন্যে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার মুখোমুখি হতে হবে না।  একটি ই-পাসপোর্ট হবে ৪৮ পাতার, অন্যটি ৬৪ পাতার। পাঁচ বছর ও দশ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে ফি জমা দিতে হবে। মান তিন ধরনের। ‘অতি জরুরি’, ‘জরুরি’ ও ‘সাধারণ’।

পাঁচ বছর মেয়াদি ৬৪ পাতার ‘সাধারণ ই-পাসপোর্ট’ ১৫ দিনে পেতে ফি লাগবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। সাত দিনে ‘জরুরি ই-পাসপোর্ট’ পেতে ফি জমা দিতে হবে সাত হাজার ৫০০ টাকা। দুই দিনে ‘অতি জরুরি ই-পাসপোর্ট’ পেতে ফি জমা দিতে হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। একইসঙ্গে ১৫ দিনে ৬৪ পাতার ১০ বছর মেয়াদি ‘সাধারণ ই-পাসপোর্ট’ পেতে ফি জমা দিতে হবে ৭ হাজার টাকা। সাত দিনে ১০ বছর মেয়াদি ৬৪ পাতার ‘জরুরি ই-পাসপোর্ট’ পেতে ফি জমা দিতে হবে ৯ হাজার টাকা। মাত্র ২ দিনে ‘অতি জরুরি’ মানের ৬৪ পাতার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট পেতে ফি জমা দিতে হবে ১২ হাজার টাকা। এই ফি’র সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট জমা দিতে হবে।

লেখক :শিক্ষার্থী, অর্থনীতি (এমএসএস),

তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা