১৬ বছর পর টেস্ট
খেলতে পাকিস্তানে
দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
ইসলামাবাদ থেকে বাস ছুটছে রাওয়ালপিন্ডির দিকে।
৪৫ মিনিটের এই যাত্রাপথে ক্রিকেটাররা নিজেদের মতো করেই সময় কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার একটু আনমনা হয়ে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানে এর মাঝেও এসেছেন তিনি। কিন্তু এবারের আসাটা একটু অন্যরকম। আবার টেস্ট দলের সঙ্গে পাকিস্তান এলেন। এবার খেলতে নয়, খেলা দেখতে এলেন। সাক্ষী হতে এলেন নতুন এক ইতিহাসের।
২০০৩ সালের পর এই প্রথম পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে গেল বাংলাদেশ। বহু অর্থে ২০০৩ সালের পাকিস্তান সফর বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এক অধ্যায়। সেই সফরে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। মুলতানে ১ উইকেটের সেই পরাজয় আজও কাদায় হাবিবুল, খালেদ মাহমুদদের। তবে এবার সেই আফসোসটা ঘোচানোর ভালো একটা সুযোগ দেখছেন হাবিবুর। বলছেন, দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে। এখন আর বাংলাদেশ ‘আন্ডারডগ’ নয়। এখন বাংলাদেশের জয় নিয়ে ফেরাটাই লক্ষ্য।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দল গেছে দোহায়। সেখান থেকে এক ফ্লাইটে সবাই ইসলামাবাদে। আর সেখান থেকে বিপুল নিরাপত্তার ভেতর দিয়ে তারা গেছেন রাওয়ালপিন্ডিতে। এখানেই এই সফরের একমাত্র টেস্টটি খেলবে বাংলাদেশ।
হাবিবুল জানালেন, ক্লান্তিকর এই ভ্রমণের পরও দলের সবাই সুস্থ আছেন। আজ মাঠে নেমে অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নেবেন। আগামীকাল থেকে শুরু হবে টেস্ট। এই টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বলছিলেন, ‘বাংলাদেশ এখন তো আর ২০০৩ সালের দল নয়। এখন জয়ের কাছে যেতে গেলে তাদের মিরাকল দরকার হবে না। পাকিস্তান খুব ভালো দল। তাই বলে এটা নয় যে, তাদের হারানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। আমি মনে করি, টেস্ট জেতার লক্ষ্যই হওয়া উচিত আমাদের।’
অবশ্য এখানে একটু আশাটা কমিয়ে দিচ্ছে গত দুটো সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। সেটা স্বীকার করেও বাংলাদেশ দল উজ্জীবিত থাকবে বলে আশা করছেন হাবিবুল। আরেকটা বড়ো ব্যাপার হলো—দলে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম নেই। এটাকে বড়ো একটা সমস্যা বলে মনে করছেন এই নির্বাচক, ‘সাকিব ও মুশফিক না থাকা মানে চার জন খেলোয়াড় নেই। ওরা মাঠে দু জন করে খেলোয়াড়ের রোল প্লে করে। ফলে ওদের ছাড়া সাবকন্টিন্টে খেলাটা খুব কঠিন।’
তার পরও জয়ের স্বপ্ন দেখেন হাবিবুল। স্বপ্ন দেখেন, মুলতানের দুঃখ ঘোচানোর।
সেই সিরিজে বাংলাদেশ তিনটি টেস্ট খেলছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জেতার আগ পর্যন্ত সেটাই বাংলাদেশের সেরা সিরিজ ছিল। দ্বিতীয় টেস্টেও বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস লিড নিয়েছিল। আর মুলতানে তো জিততেই বসেছিল। সেই কথা মনে করে হাবিবুল বলছিলেন, ‘যতদিন জ্ঞান আছে, মুলতান টেস্টের কথা তো ভুলতে পারব না। ওটা আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো ট্রাজেডি। মাশরাফি খেললে, আম্পায়ারিংটা ভালো হলে বা এরকম ছোট্ট একটা কিছু হলে হয়তো ১ উইকেটে হারতে হতো না ঐ ম্যাচটা।’
ব্যক্তিগতভাবে হাবিবুলের জন্য ঐ সিরিজটা অসাধারণ ছিল। তখন দুরন্ত ফর্মে থাকা হাবিবুল ঐ সিরিজে দুই দল মিলিয়ে সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। ৩ ম্যাচে ৩৭৯ রান করেছিলেন; একটা সেঞ্চুরি, তিনটি ফিফটি ছিল। হাবিবুল বলছিলেন, ‘আমার জন্য ওটা ক্যারিয়ারের সেরা সিরিজগুলোর একটা ছিল। তবে এখনো সেই সন্তুষ্টির চেয়ে আফসোসই বেশি।’
এবার তাহলে আফসোস ঘোচানো যাক।
