নেত্রকোনায় মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩২

ভারতে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে নেত্রকোনা জেলা শহরের মোক্তারপাড়ায় হিন্দু মন্দিরে হামলার ভাইরাল হওয়া খবরটি অসত্য। এ ধরনের কোনো ঘটনা এখানে ঘটেনি। কোনো হিন্দু মন্দিরে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং ইসকন দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করতে গেলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে কোনো প্রকার অঘটন ঘটেনি। বর্তমানে এই সম্পত্তিতে ৩৫ জন ভাড়াটিয়া আছেন। তার মধ্যে ১০ জন মুসলিম। 

নেত্রকোনার মোক্তারপাড়ার দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে সৃষ্ট প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, মোক্তারপাড়ায় দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও দখল নিয়ে তিনটি কমিটি রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে তিনটি মামলাও রয়েছে। এছাড়া এ সম্পত্তি দখলে রাখার জন্য অপর একটি সম্প্রদায়ের (মুসলিম) একজনকে একটি কমিটির সভাপতিও করা হয়েছে। মূলত এখানে গৌরগোপাল বিগ্রহ মন্দির প্রতিষ্ঠিত। গত ১৭ জানুয়ারি ইসকন কর্তৃক দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, তাও ভাড়াটিয়া এবং ইসকনের সাথে। তবে পুলিশ এসে পড়ায় কোনো ঘটনা ঘটেনি। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার  বিষয়টি মনিটরিং করেন।  

জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মঙ্গল দাস বলেন, ইসকনের এই কাজটি সেদিন সঠিক ছিল না। জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সীতাংশু বিকাশ আচার্য বলেন, ইসকনের ওপর হামলা বা কোনো হিন্দু মন্দির ভাঙচুর হয়েছে এমন ঘটনা তার জানা নেই।

এদিকে ইসকনের নেত্রকোনা টেম্পলের প্রেসিডেন্ট জয়রাম দাস গতকাল বুধবার বলেন, নেত্রকোনা পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ মোক্তারপাড়ায় দেবোত্তর সম্পত্তির কিছু অংশ বেশ কয়েক বছর আগে তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়। কিন্তু তারা এর দখল পাচ্ছিলেন না। পরে এ নিয়ে মামলাও হয়। কিন্তু হঠাত্ কিছুলোক তাদের এই জমিটি অন্যের নিকট হস্তান্তর করছে জেনে এ দিনই তারা তাদের ঐ জমি দখলে নিতে গেলে তাদের ওপর হামলা হয়। এই হামলার সময় ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজনও ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, নেত্রকোনা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এখানে কোনো মন্দিরে বা হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা হয়নি।

 

 

০