ভোটের ফলাফল পালটে দেওয়ার অভিযোগ তাবিথ ইশরাকের

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৭

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ফলাফল পালটে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশান ইমানুয়েলস হলে নির্বাচন পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তারা। সেখানে তারা নানা অনিয়ম ও কারচুপির প্রামাণ্য তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণাদিও উপস্থাপন করেন দুই প্রার্থী। পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সামনে এসব অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন তাবিথ আউয়াল।

এ সময় ইশরাক হোসেন বলেন, নগরবাসীর কাছে আমি প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিতে চাই। কথা দিয়েছিলাম, নির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে যাওয়া, ভোট দেওয়া এবং বাসায় ফেরার ব্যবস্থা করব। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেব। কিন্তু আমি এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি। তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকে আমাদের নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছিল। কিন্তু কোনো বাধাকেই বাধা মনে করিনি। সদ্যপ্রয়াত পিতার স্মৃতিচারণ করে    ইশরাক বলেন, উনার কষ্টের শেষ দিনগুলো আমার চোখে ভাসে। কিন্তু এর মধ্যেও টানা ২১ দিন প্রচারণা চালিয়েছি। হেঁটেছি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। জনগণের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু ভোটের দিন আমি পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচনি কর্মকর্তা এবং নির্বাচনে সহায়তাকারী অন্য সদস্যদের মধ্যে অসহায়ত্ব ও হতাশা দেখেছি। আমাদের পোলিং এজেন্টদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বের করে দেওয়া হয়। ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি ব্যর্থ প্রমাণ হয়েছে মন্তব্য করে ইশরাক বলেন, প্রথমত কন্ট্রোল ইউনিটিতে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লোকজন বুথে ঢুকে ভোট দেয়। দ্বিতীয়ত অনেক কেন্দ্রে ইভিএম-এ ধানের শীষ প্রতীক রাখাই হয়নি।

এছাড়া উত্তরের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রাথমিক যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়, সেটা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আজ অফিশিয়ালি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। পাশাপাশি দাবি করছি নির্বাচন সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ড নির্বাচন কমিশন বন্ধ রাখবে এবং ইভিএম-এর কন্ট্রোল ইউনিট স্লিপসহ সব তথ্য জনগণের সামনে পেশ করবেন। তিনি বলেন, ওই দিন গণমাধ্যমের অনেক কর্মী আহত হন। আমাদের পোলিং এজেন্ট যারা যথা সময়ে কেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন, তাদের কেন্দ্রে থেকে বের করে দেওয়া হয়।

তাবিথ বলেন, পুলিশের ওপর হামলার জন্য যদি সরকারদলীয় কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয় তবে আমাদের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার হবে না, তা হতে পারে না।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, বরকত উল্যাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এলডিপির (একাংশ) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।