সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমছে আশঙ্কাজনক হারে

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:৪৩

সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগে রাশ টানতে সরকারের দেওয়া কিছু শর্তের কারণে এ খাতে বিনিয়োগ কমছে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে এ খাতে বিনিয়োগ কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। আলোচ্য সময়ে এ খাতে বিনিয়োগের চেয়ে উত্তোলন করেছে বেশি। আর গত ছয় মাসে বিক্রি নেমে এসেছে আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এক-পঞ্চমাংশে। এদিকে সরকারের রাজস্ব আয়েও ভাটা। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সরকারের ব্যাংক ঋণে। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসেই পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফেলেছে সরকার। ফলে বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, এর ফলে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 সঞ্চয়পত্র মানুষের বিনিয়োগকৃত অর্থ সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ। বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে মূলধন উত্তোলন করার পর বাকি অর্থ নিট বিনিয়োগ। চলতি অর্থবছর সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথমার্ধে এ খাতে নিট বিনিয়োগ এসেছে ৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে ডিসেম্বরে বিনিয়োগের উত্তোলন বেশি হওয়ায় নিট বিনিয়োগ কমে গেছে ৪০৮ কোটি টাকা। বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু আছে। এগুলোর গড় সুদের হার ১১ শতাংশের বেশি।

 গত কয়েক বছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চাইতেও বেড়ে গিয়েছিল। এতে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে গিয়ে সুদ হিসেবে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছিল। এসব কারণে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে রাশ টানার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা, সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উেস কর দ্বিগুণ করা, ১ লাখ টাকার ওপরে হলে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া, অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতি, একই ব্যক্তির বিভিন্ন জায়গা থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ এবং অর্থের বিবরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। এছাড়া এক ব্যক্তি কত টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে, তারও সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

এসব কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমে গেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এখন সরকার চাইলেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়াতে পারছে না। কারণ চাহিদা তো থাকতে হবে। তিনি বলেন, এসব কারণে সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়ে গেছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঐ সব খাতের প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথমার্ধে সরকারের ব্যাংক ঋণ ঠেকেছে ৪৮ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। অথচ পুরো অর্থবছরের সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে পুরো বছরব্যাপী সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়েছিল ২৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা।