বঙ্গবন্ধু :মধ্যরাতের সূর্যতাপস

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৪২

ইতিহাস নেতা তৈরি করে, না নেতা ইতিহাস তৈরি করেন— এ বিতর্কটি এখনো অমীমাংসিত। লেনিন কি রুশ বিপ্লবের স্রষ্টা, না রাশিয়ার ইতিহাস দেশটির তত্কালীন পরিস্থিতি থেকে বিপ্লবের পটভূমি নির্মাণ করে লেনিনের নেতৃত্ব তৈরি করেছিল তা নিয়েও এক সময় ছোটখাটো বিতর্ক চলেছিল। লেনিন তো ছিলেন আইনের ছাত্র, আইন মানা সুবোধ যুবক। তিনি কেন হঠাত্ আইনের কেতাব তাকে তুলে রেখে বিপ্লবী হয়ে গেলেন? সে কি শুধু জারের হাতে তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য? না তার পেছনে ছিল ইতিহাসের হাতছানি?

আমার বিশ্বাস, কোনো দেশের বিশেষ পরিস্থিতির বৈপ্লবিক উপাদান থেকেই ইতিহাস নতুন নেতৃত্ব তৈরি করে। সেই নেতৃত্বই আবার ইতিহাসের নতুন মোড় ঘোরানোর দুঃসাধ্য কাজকে সহজ ও সম্ভব করে। ইতিহাস স্বয়ম্ভূ শক্তির মতো। ঘটনার উদ্ভব তার হাতে। তাকে নিয়ন্ত্রণ করে না সে। নিয়ন্ত্রণের ভার দেয় নিজের সৃষ্ট নেতৃত্বের হাতে। নেতা যদি ভুল না করেন তাহলে বিপ্লব সফল হয়, নতুন ইতিহাস তৈরি হয়। নেতা ভুল করলে, তার পদস্খলন ঘটলে বিপ্লব ব্যর্থ হয়, নতুন ইতিহাস তৈরি হয় না।

ইতিহাসের এই সত্য বাংলাদেশের বেলায়ও প্রযোজ্য। সেই পাল রাজাদের আমল থেকে সেন রাজা, স্বাধীন সুলতানি আমল, মোগল আমল, মুর্শিদাবাদের নবাবি আমল, ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তানি আমল, শেখ মুজিব ও স্বাধীন বাংলার অভ্যুদয়— এই দীর্ঘ কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস ঘাঁটলেও দেখা যাবে, নদীর মতোই ইতিহাস তার নিজস্ব স্রোতের গতিতে আঁকাবাঁকা পথে এগোনোর সময় পুরোনো বসতি ভেঙেছে, নতুন চর গড়ে তুলেছে। পুরোনো ও ব্যর্থ নেতৃত্বকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, নতুন নেতৃত্ব গড়েছে। সেই নেতৃত্ব আবার নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

সেই বারোভূঁইয়ার বাংলা থেকে শেখ মুজিবের বাংলা পর্যন্ত বাংলার ইতিহাসের গতিপথ আঁকতে গেলে দেখা যাবে তা সরল রেখায় এগোয়নি। শান্ত নদীর নিস্তব্ধ স্রোত সে নয়। সে কূলভাঙা নদী। প্রতিটি বাঁকে সে ভাঙন ও বৈপ্লবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তা থেকে উঠে এসেছে নতুন নেতা। তাদের কেউ কেউ ভুল পথে গিয়ে, পদস্খলিত হয়ে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছেন। কেউ কেউ নতুন ইতিহাস সৃষ্টিতে সফল হয়েছেন। আবার কেউ কেউ সফল হয়েও শেষ পর্যন্ত হয়েছেন গ্রিক ট্র্যাজেডির নায়ক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শেষোক্তের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। আধুনিক যুগের আধুনিক বাংলা গড়ায় যে নতুন রাজনীতির সূচনা করে গেছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, আবুল হাশিম ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, তাকে বৈপ্লবিক সমাপ্তিতে টেনে আনার বিরাট কৃতিত্ব শেখ মুজিবের। তিনি ইতিহাসের সন্তান। নিজে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

আমাদের উপমহাদেশীয় রাজনীতির একটা বৈশিষ্ট্য এই যে— স্বাধীনতা অর্জনে এই রাজনীতির বড় ধারাটি ছিল নিয়মতান্ত্রিক। কংগ্রেস দল ও তার নেতা মহাত্মা গান্ধী সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে আস্থাশীল ছিলেন না। ফলে দলছুট বিপ্লবীরা, টেরোরিস্ট নামে অভিহিত মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে বিদেশি রাজশক্তির উচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা করেছে। তারা সফল হয়নি বটে, কিন্তু তাদের ধারাটি বিলুপ্ত হয়নি। এই ধারা থেকেই উঠে এসেছে সুভাষ-নেতৃত্ব এবং তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ। একমাত্র গান্ধীর অহিংস অসহযোগ ও কুইট-ইন্ডিয়া আন্দোলনে উপমহাদেশ স্বাধীন হয়েছে— এই ধারণাটি ভুল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ভারতের পূর্ব সীমান্তে আজাদ হিন্দ ফৌজের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সুভাষ যুদ্ধে জয়ী হননি, কিন্তু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্ত ভিত্তি নড়বড়ে করে দিয়েছেন।

জার-শাসিত রাশিয়ায় বিপ্লবী কমিউনিস্ট আন্দোলনের দুটি ধারা ছিল। একটি নরমপন্থি মেনশেভিক ধারা, অন্যটি বিপ্লববাদী বলশেভিক ধারা। জারের পতনের পর মেনশেভিকরাই প্রথমে ক্ষমতায় বসেছিল। লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা পরে মেনশেভিকদের ক্ষমতা থেকে হটায় এবং সমাজতন্ত্রী সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যুদয় ঘটে। ব্রিটিশ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনেও প্রধান রাজনৈতিক দলটিতে ঠিক রাশিয়ার অনুরূপ না হলেও দুটি প্রধান ধারা ছিল : একটি ছিল গান্ধী-নেহেরুর নেতৃত্বাধীন আপসপন্থি অহিংস অসহযোগের ধারা। অন্যটি সুভাষ বসুর নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারা। এই ধারায় বিশ্বাসীদের নিয়ে সুভাষ বসু প্রথমে রাজনৈতিক দল গঠন করেন ফরোয়ার্ড ব্ল­ক। তারপর দেশত্যাগ করে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন— সশস্ত্র যুদ্ধ দ্বারা ভারতে ব্রিটিশ শাসন খতম করার লক্ষ্যে।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র স্বাধীনতার সংগ্রাম সফল হলে অবিভক্ত ভারত নিঃসন্দেহে বিভক্ত হতো না। ইংরেজরা রেডক্লিফের ছুরি ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে উপমহাদেশকে খণ্ডিত ও রক্তাক্ত করতে পারত না। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পরিচালিত মুসলিম লীগের দ্বারা ভারতের দুই সীমান্তের দুই অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান নামে একটি অবাস্তব এবং সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তা দ্রুত একটি মধ্যযুগীয় মৌলবাদী দেশ এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতো না। অবিভক্ত ভারতে প্রধান দুটি ধর্মসম্প্রদায়— হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে ছিল ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিবাদ, যা বিশ্বের বহু দেশে বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে, তা আমাদের উপমহাদেশে দেশভাগ ও ভয়াবহ সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সংঘর্ষ ও বিরোধে পরিণত হতে পারত না। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটত একটি মাল্টি ন্যাশনাল, মাল্টি রিলিজিয়াস ও মাল্টি কালচারাল— অত্যন্ত শক্তিশালী ইউনাইটেড ফেডারেল ইন্ডিয়ার।

অবিভক্ত ভারতের রাজনীতিতে সুভাষ বসুর সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী রেডিক্যালিজমের ধারা সফল হতে পারলে গান্ধী ও নেহেরুর আপসবাদী এবং সাম্প্রদায়িকতার প্রতি অ্যাপীজমেন্ট পলিসির অনুসারী ধারা সফল হতে পারত না এবং বিভক্ত ভারতে আজ যে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কালো থাবা জনজীবনের শান্তি ও স্বাধীনতাকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে, তার সূচনা হয়তো অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা যেত। বিভক্ত ভারতের বিরোধী ও সংঘাতেই গোটা উপমহাদেশে বিতাড়িত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ আবার নতুন বেশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে।

অবিভক্ত ভারতের জন্য ইতিহাস সেই মধ্যযুগের মোগল আমল থেকেই একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থার পথ তৈরি করতে চেয়েছে। সেজন্যে তার সন্তানও সৃষ্টি করেছে। এই সন্তানেরা ব্যর্থ হয়েছে বলেই সংযুক্ত অসাম্প্রদায়িক ভারত গড়ার স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে। মোগল যুগের শ্রেষ্ঠ সম্রাট সম্পর্কে কবি লিখেছেন,

‘মুসলিম হিন্দুরে বাঁধি প্রেমের বন্ধনে

প্রতিষ্ঠিত এক ক্ষেত্রে অভিন্ন পরানে

চেয়েছিল দেখিবারে যেই মহাজন

সেকেন্দ্রা তাহার অস্থি করেছে ধারণ।’

এই সম্রাটও হলেন আকবর। তিনি তার সাম্রাজ্যে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রচলিত ধর্মগুলোর সমন্বয়ে দীনে-এলাহি নামে এক নতুন ধর্ম প্রচারের চেষ্টা করেছিলেন। এটা ছিল সে যুগে এক বিপ্লব। এই বিপ্লব সফল না হলেও একটি অসাম্প্রদায়িক ও ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নের সূচনা ঘটিয়েছিল। সে জন্যেই পরবর্তীকালে আকবরকে সেক্যুলার মডার্ন ইন্ডিয়ার আদি পিতা বলে উল্লেখ করেছেন নেহেরু।

সম্রাট আকবরের পর যে মোগল রাজপুত্র সেক্যুলার ইন্ডিয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি শাহজাদা দারাশিকো। তাকে তার উগ্র মৌলবাদী ভাই আওরঙ্গজেব হত্যা করে। আওরঙ্গজেবের নীতি মোগল-সাম্রাজ্য রক্ষা করেনি। তার বিলুপ্তি ঘটায়। ব্রিটিশ ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান রাজনৈতিক দল নিখিল ভারত কংগ্রেস যখন অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে গঠিত হওয়া সত্ত্বেও বর্ণহিন্দু নেতৃত্বের প্রাধান্যমূলক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চলছিল, তখন গান্ধী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করে এবং তাকে গণপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে। কিন্তু গান্ধী ভারতে বৈদিক যুগ ফিরিয়ে আনা, রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার স্লোগানের সঙ্গে নিজে কৌপীনধারী হয়ে প্রার্থনাসভা, আশ্রম জীবন ইত্যাদিকে তার রাজনীতির অংশ করে তোলায় কংগ্রেসের আসল লক্ষ্য ও চরিত্র সম্পর্কে ভারতীয় মুসলমানদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। ব্রিটিশ-রাজ এই সন্দেহটা বাড়ানোর সব সুযোগ গ্রহণ করে।

মুসলমানদের স্বাধীনতা আন্দোলনে টেনে আনার ক্ষেত্রেও গান্ধী ধর্মীয় কৌশল গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানদের ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার সরাসরি ডাক না দিয়ে তার অসহযোগ আন্দোলনের পাশাপাশি তুরস্কের ভেঙে পড়া মধ্যযুগীয় অটোমান সাম্রাজ্য, যা মুসলমানদের খেলাফতি শাসনব্যবস্থা নামে এতদিন টিকেছিল, তা পুনরুদ্ধারের জন্য খেলাফত আন্দোলন করার আহ্বান জানান। তুরস্কের খলিফাকে সিংহাসনচ্যুত করে অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে দিয়েছিল ব্রিটিশ আগ্রাসন। গান্ধী চেয়েছিলেন খেলাফত উদ্ধারের দাবিতে ভারতের মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় জাতিত্ববোধ জাগিয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাদের শামিল করা। মহাত্মা গান্ধী এইভাবে নিজের অজান্তেই পরোক্ষভাবে ভারতের মুসলমানদের মধ্যে দ্বিজাতিতত্ত্বের এবং তাদের পৃথক আবাসভূমি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবির বীজ রোপণে সাহায্য জুগিয়েছিলেন।

ভারতের মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উন্মেষ ও প্রভাব বিস্তার শুধু ব্রিটিশ শাসকদের বিভেদনীতির ফল নয়, তা কংগ্রেসের বর্ণহিন্দু নেতৃত্বের জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্য নীতিরও পরিণতি। ভারতের স্বল্পসংখ্যক অভিজাত ও উচ্চশ্রেণির মুসলমানের মনে দিল্লির সিংহাসন হারানোর বেদনাবোধ ও তাকে পুনরুদ্ধারের অলীক আশা যে ছিল না তা নয়; কিন্তু বিশাল বিপুল আম-মুসলমান, যারা ছিল অনগ্রসর এবং শিক্ষা-দীক্ষায় পশ্চাত্পদ, তারা দিল্লিতে সিংহাসন উদ্ধার নিয়ে তেমন মাথা ঘামায়নি, বরং তাদের শিক্ষিত ও সচেতন অংশ কংগ্রেসের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল।

মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে এবং পরেও সর্বভারতীয় মুসলিম নেতারা মওলানা মোহাম্মদ আলি, শওকত আলি, হাকিম আজমল খান, মওলানা আবুল কালাম আজাদ, আবদুল গাফ্ফার খান, মওলানা আকরম খাঁ, এ কে ফজলুল হক, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখর অবস্থান ছিল কংগ্রেসে। এমন কি দেওবন্দের অধিকাংশ আলেম এবং জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের মতো মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের প্রতিষ্ঠানটিও ছিল কংগ্রেসের সমর্থক এবং দ্বিজাতিতত্ত্ব ও পাকিস্তান দাবির বিরোধী। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মওলানা আবুল আলা মওদুদীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যে জামায়াতে ইসলামী দলটি কট্টর সাম্প্রদায়িক এবং সহিংস মৌলবাদী দল হিসেবে পরিচিত হয়েছে, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে সেই দল এবং তাদের নেতা মওলানা মওদুদীও জিন্নাহ-নেতৃত্ব ও পাকিস্তান দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

১৯৪০ সালে অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে মুসলিম লীগ সম্মেলনে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য ‘লাহোর প্রস্তাব’ গৃহীত হলেও বাংলা ও আসামসহ অবিভক্ত ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিকাংশ প্রদেশেই মুসলিম লীগের তেমন কোনো জনপ্রিয়তা ছিল না। চল্লিশের দশকের মধ্যভাগ অর্থাত্ দেশ ভাগ হওয়ার এক বছর আগেও পাঞ্জাবে মালিক খিজির হায়াত খানের নেতৃত্বে ইউনিয়নিস্ট পার্টির, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে আবদুল গাফ্ফার খানের কংগ্রেস সমর্থক খোদা-ই খিদমতগার পার্টির লাল কোর্তাদল প্রাদেশিক সরকার ক্ষমতায় ছিল। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান ইস্যুতে ভারতব্যাপী সাধারণ নির্বাচনেও একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশে মুসলিম লীগ জয়ী হয়নি। সিন্ধুতে মুসলিম লীগ সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল। কিন্তু সেই জয় অর্জনের জন্য নির্বাচনের বেশ কিছুকাল আগেই সিন্ধুর মুসলিম লীগবিরোধী জনপ্রিয় নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী আল্লাবখশকে আততায়ীর দ্বারা হত্যা করাতে হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু মধ্যরাতের সূর্যতাপস

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

প্রচ্ছদ  :আনওয়ার ফারুক

প্রকাশকাল :ফেব্রুয়ারি ২০২০

প্রকাশক :আগামী প্রকাশনী

দাম : ৩৫০.০০ টাকা