বড়ো আশা করছেন না প্রধান নির্বাচক

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৩

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তিন দফায় পাকিস্তান সফর করছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। প্রত্যেকবারই সাত দিনের বেশি পাকিস্তানে অবস্থান করবে না বাংলাদেশ। যার কারণে পাকিস্তান সফরটা কার্যত আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিচ্ছে। ক্রিকেটাররা প্রস্তুতির সুযোগ পাচ্ছেন না, কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও নেই। সঙ্গে যোগ হয়েছে নিরাপত্তার ভয়। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে হোটেল-স্টেডিয়ামে বন্দি জীবন কাটছে ক্রিকেটারদের। তাই ব্যাট-বলের লড়াইটা মূল ফোকাসে থাকছে না।

সর্বশেষ টি-২০ সিরিজেই যা মঞ্চায়িত হয়েছে। প্রায় দেড় মাস বঙ্গবন্ধু বিপিএল খেলে গিয়েও পাকিস্তানে ২-০ তে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের কাছে পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। মুশফিকুর রহিম দলের সঙ্গী হননি নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়ে।

টি-২০র মতো টেস্টেও মুশফিককে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। আজ থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হতে চলা বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্টেও বড়ো কিছু আশা করছেন না জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। ১৬ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, পূর্ণ শক্তির দল ছাড়াই। এই দলের কারোই অভিজ্ঞতা নেই পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলার। তাছাড়া টেস্টে গত এক বছর বাজে সময় কাটছে বাংলাদেশের। গত বছর পাঁচ টেস্ট খেলে চারটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। বলা বাহুল্য, চারটি ম্যাচই ছিল দেশের বাইরে।

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে মুমিনুল হকের দলের প্রতি প্রত্যাশা জানতে চাইলে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘ক্রিকেটে আপনার আগাম বলা মুশকিল। তার ওপর বাইরের দেশে আমাদের লংগার ভার্শন ক্রিকেটে বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে পারফরম্যান্স আপ টু দ্যা মার্ক না। সে হিসেবে পাকিস্তানে যেভাবে দল যাচ্ছে এভাবে কিন্তু পারফরম্যান্সটা পুরো পাওয়া কঠিন। কারণ আমাদের এখনকার খেলোয়াড়দের কিন্তু ওখানে খেলার অভিজ্ঞতা নেই।’

টেস্টের আগে চার-পাঁচটি প্র্যাকটিস সেশন পেলে প্রস্তুতিটা ভালো হতো বাংলাদেশের। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে রাওয়ালপিন্ডি পৌঁছেছে মুমিনুল বাহিনী। গতকাল একদিনের অনুশীলনকে পুঁজি করে আজ টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। তাই ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। গতকাল প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ বা অন্তত চার-পাঁচ দিনের একটি অনুশীলন সেশন যদি না পাওয়া যায়, তাহলে প্লেয়ারদের মানিয়ে নেওয়াতে অনেক সমস্যা হয়। কারণ ওখানে টি-টোয়েন্টিতে আমরা যে মাঠে খেলেছি সে মাঠে কিন্তু টেস্ট খেলছি না। সম্পূর্ণ আলাদা জায়গা, মাঠ ও কন্ডিশনও আলাদা।’

প্রধান নির্বাচক আশা করছেন, ক্রিকেটাররা অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে ভালো কিছু করতে পারবে বাংলাদেশ। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘তার পরও আমি মনে করি যে খেলোয়াড়রা যেহেতু পেশাদার সফরে আছে এবং অভিজ্ঞতাও আছে, এমন না যে ৮-৯ জনের অভিষেক হচ্ছে। এদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে ভালো কিছু করা সম্ভব।’

পাকিস্তান সফরে সব বিভাগেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। বিশেষ করে পাকিস্তানের পেস আক্রমণই বড়ো হুমকি হবে ব্যাটসম্যানদের জন্য। প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘সব বিভাগেই দল চ্যালেঞ্জে পড়বে। কারণ পাকিস্তান দল যথেষ্ট ভালো। দেশের মাটিতে যে কোনো দলই শক্ত ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব দিক দিয়ে। প্রতিটি বিভাগেই সংগ্রাম করতে হবে। আমি মনে করি যে প্রতিটি সেশন বাই সেশন যদি খেলা যায় এবং মনোযোগ যদি সর্বোচ্চ লেভেলের থাকে ইনশাল্লাহ ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবে।’