সবজি

শীতের সবজি

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৮

ঋতুবৈচিত্র্যের এই বাংলাদেশে এক এক ঋতুতে এক এক ধরনের ফসল জন্মে। শীতকালের শাকসবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, টমেটো, আলু, গাজর, বেগুন, মুলা, লাউ, শিম, ধনেশাক, পালংশাক, লালশাক প্রভৃতি। এইসব শাকসবজি মানব দেহের জন্য পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, বি, সি এবং ক্যালসিয়াম, লৌহ, আয়োডিন প্রভৃতি এবং অতি প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ জোগান দেয়। তাছাড়া কিছু পরিমাণে স্নেহ পদার্থ এবং যথেষ্ট পরিমাণে শর্করা জাতীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। শিম জাতীয় সবজিতে পর্যাপ্ত প্রোটিন রয়েছে এবং অন্য শাকসবজিতে প্রোটিন কম থাকলেও লাইসিন ও ট্রিফটোফেন নামক অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বেশি আছে। গাঢ় সবুজ ও হলুদ রঙের সবজি বিশেষ করে গাজর, টমেটো, বাঁধাকপি, মুলাশাক, লালশাক ও পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন থাকে। এ ক্যারোটিন থেকে আমাদের দেহে ভিটামিন ‘এ’ উত্পন্ন হয়। কাজেই পুষ্টির দিক থেকে শীতকালীন শাকসবজির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শীতকালীন শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকে। এই আঁশ খাদ্যদ্রব্য হজম, পরিপাক ও বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা ছাড়াও মলাশয়ের ক্যান্সার, বহুমূত্র, স্থূলকায়ত্ব, হূিপণ্ড, রক্তচাপ, মূত্রনালীর পাথর ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখে। শীতকালীন শাকসবজি শিশুদের অপুষ্টিজনিত রাতকানা, অন্ধত্ব, রিকেট, বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ, স্কার্ভি, মুখ ও ঠোঁটের কোণে ঘা এবং রক্তশূন্যতা দূর করতে কার্যকর। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, একটি শিশুর প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ গ্রাম ও একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের জন্য ২০০ গ্রাম শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে একজন পূণবয়স্ক লোক গড়ে ৩০ গ্রাম সবজি খায়। এর সঙ্গে আলু ও মিষ্টি আলু যোগ করলেও প্রতিদিন গড় পরিমাণ ৭০ গ্রামের বেশি হয় না। অর্থাত্ প্রয়োজনের তুলনায় আমরা খুব অল্পই শাকসবজি খাই। আমাদের খাবার তালিকায় ভাত জনপ্রিয়তার শীর্ষে। সে তুলনায় শাকসবজির কদর একেবারেই কম। শীতকালীন অধিকাংশ শাকসবজি বিশেষ করে পাতা জাতীয় সবজি ভিটামিন ‘সি’-তে ভরপুর। ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ লালশাক, পালংশাক, মুলাশাক কিংবা দেশীয় যে কোনো শাকের মাত্র ৫০ গ্রাম আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।

বাংলাদেশের মানুষের জন্য অপুষ্টি একটি মারাত্মক জাতীয় সমস্যা। এ দেশের নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর-কিশোরী অধিকাংশ মানুষই অপুষ্টির শিকার। ফসল উত্পাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শীত মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মৌসুমে উজ্জ্বল সূর্যকিরণ পাওয়া যায় এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে বলে ফসল ফলানোর বিভিন্ন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলে। ফলে ফসল ভালো জন্মে এবং আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়। কাজেই এ সময় অধিক পরিমাণে শাকসবজির চাষ করে তা পরিমাণমতো খাওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক তথা জাতীয় পুষ্টি সমস্যা দূর করা সম্ভব। আর আমাদের স্বপ্নই তো একটি সুস্থ-সবল ও অপুষ্টিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া।