করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রভাব

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫১

বাংলাদেশে এখনো করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত কাহাকেও পাওয়া যায় নাই। ইহা  দেশের জন্য একটি সুখবর। চীন হইতে যাহারা ফিরিয়া আসিয়াছেন তাহাদের যথেষ্ট যত্নসহকারে পরীক্ষা করা হইয়াছে এবং হইতেছে। কিন্তু অন্য একটি উদ্বেগ রহিয়াছে, যাহা শুধু বাংলাদেশের নহে, বিশ্বের বহু দেশের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। মানুষের জীবনের হুমকির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি এই ভাইরাসের প্রভাবে উত্তরোত্তর হুমকির মধ্যে নিপতিত হইতেছে। চীনের সঙ্গে বহু দেশের রহিয়াছে বাণিজ্যিক কারবার, যাহা বন্ধের উপক্রম হইয়াছে। আমাদের দেশেও চীন হইতে বত্সরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হইয়া থাকে। স্ক্রু ড্রাইভার হইতে শুরু করিয়া প্রকল্পের বড়ো বড়ো মেশিন আমদানি করিতে হয় চীন হইতে। বেশ কয়েক ধরনের মসলা আমদানি হয় চীন হইতে। ইহা ছাড়াও কৃষিজাত খাদ্য, ইলেকট্রনিক সামগ্রী হইতে শুরু করিয়া তৈল, মিনারেল ওয়াটার এমনকি লিপিস্টিক, টুথ পাওডার, বলপয়েন্ট, ফেসিয়াল টিস্যু পর্যন্ত মোট ১৮১ ধরনের পণ্য আমদানি হইয়া থাকে। ইহার মধ্যে রসুন আমদানি শতভাগ হয় চীন হইতে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক আমদানিক্ষেত্রে আমরা চীনের উপর যথেষ্ট নির্ভরশীল।

এই মুহূর্তে চীন গোটা বিশ্ব হইতেই একরকম বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িয়াছে। চীন শুধু বিচ্ছিন্ন হইয়াছে তাহাই নহে, চীনের নিজের বহু কোম্পানি বন্ধ রহিয়াছে, বহু শহর এখন মানুষ ঘর হইতে না বাহির হওয়ার কারণে ভূতুড়ে শহরে পরিণত হইয়াছে। এখন পরিস্থিতি এমনই যে চীন হইতে আমদানি করিতে চাহিলেও তাহা করা যাইবে না। ফলে বর্তমানে চীন হইতে বাংলাদেশেও পণ্য আমদানি বন্ধ রহিয়াছে। বন্ধ হইয়া গিয়াছে চীনের সঙ্গে যোগাযোগও। তাই প্রশ্ন উঠিতে পারে, এই পরিস্থিতিতে আমাদের বাজারে কোনো প্রভাব পড়িবে কি না। কেহ কেহ আশঙ্কা করিতেছেন যে ইতিমধ্যেই বাজারে ইহার প্রভাব পড়িয়াছে। চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে ইতোমধ্যে রসুনের মূল্য ৩০ টাকা বাড়িয়াছে, আদার মূল্যও বাড়িয়াছে।  কিন্তু তাহার চাইতে বড়ো কথা, করোনা ভাইরাসজনিত কারণে যদি দীর্ঘকাল আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকে, তাহা হইলে কী ধরনের পরিস্থিতি আমাদের মোকাবিলা করিতে হইবে? আমদানি-রপ্তানির জন্য আমাদের কি নতুন বাজার খুঁজিতে হইবে? তাহা কি সহজ কথা? পণ্য লইয়া আমাদের কি বড়ো সংকটে পড়িতে হইবে? নিশ্চয়ই ইহা লইয়া আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ভাবনা রহিয়াছে। নিশ্চয়ই আপত্কালীন সময়ে নূতন বাজার খুঁজিয়া লইবার ব্যাপারে তাহারা জ্ঞাত আছেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে যে আশঙ্কা তৈরি হইয়াছে সেই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতায় যেন ঘাটতি না থাকে—ইহাই আমাদের বলিবার বিষয়। আমাদের শুধু মনে রাখিতে হইবে যে, বর্তমান বিশ্বে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ চরম বিপর্যয়ে পড়িলে তাহার প্রভাব আমাদের ঘরে আসিয়াও পরে। সুতরাং এই মুহূর্তে আমরা শুধু আশা করিব যত শীঘ্রই এই বিপর্যয় কাটিয়া যায়, ততই বিশ্ববাসীর মঙ্গল।