করোনা ভাইরাস সতর্কতা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫৪

চীনসহ বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে এখনো এ রোগের সংক্রমনের খবর পাওয়া যায়নি। সতর্ক থাকতে করণীয় কী? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ই-মেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের

দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো

ভয়াবহ সংক্রামক রোগ করোনা ভাইরাস উত্পত্তিস্থল বৃহত্তর চীনের হুবেই প্রদেশ। এ পর্যন্ত ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ২০ হাজার মানুষ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের বাংলাদেশের মধ্যে এবং চীনের বিভিন্ন প্রদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ও অভিভাবকদের মনে করোনার অজানা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশে যাতে করোনার আবির্ভাব না ঘটে এজন্য সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইবোলা, বার্ড ফ্লু, এইডসের মতো মরণঘাতি করোনা যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে হলে প্রচার-প্রচারণার বিকল্প নেই।

ফারুক আহমেদ,

বাঘমারা, রাজশাহী

করোনা ভাইরাস থেকে সতর্কতা অবশ্যই নিতে হবে। জনসচেতনতার পাশাপাশি সরকারকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। জরুরি মেডিক্যাল টিম গঠন করতে হবে। সর্বোপরি সর্বস্তরের মানুষের স্বাস্থ্যসচেতন করে তুলতে হবে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা।

করোনা ভাইরাস চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও আমাদের দেশে এ রোগের সংক্রামণের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে আমরা মনে করি, কোনো রকম আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন

পীরের বাগ, মিরপুর, ঢাকা।

করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে কোনো মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা নেই। বিষয়টি আমূলক নয় যে, এই ভাইরাসটি বিদেশিদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসতে পারে এবং মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেছে জীব-জন্তুর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায় এবং মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য তারা মাস্ক ব্যবহারে পরামর্শ দিয়েছেন। আমাদের দেশে ভাইরাসটি এখনো দেখা যায়নি এবং কেউ আক্রান্ত হয়নি তবুও এ ব্যাপারে সবার সতর্কতা প্রয়োজন। সতর্কতামূলক প্রচারণা এ ব্যাপারে জরুরি। সরকারকে এ ব্যাপারে ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

করোনা ভাইরাস থেকে বাংলাদেশে শিক্ষাগ্রহণ করা দরকার। আমাদের বাংলাদেশে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন ঘটেছে। কারণ নানান ধরনের বাজে খাবার। গুলশান, বারিধারা, বনানীতে এসব খাবার বিক্রি হচ্ছে। আমাদের খাবারের মধ্যে নানান ধরনের ক্ষতিকারক দ্রব্য প্রয়োগ করা হয়। চীনের থেকে যারা করোনা ভাইরাস নিয়ে এসেছে তাদের উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ও হাজী ক্যাম্পে যেভাবে রাখা হয়েছে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরসমূহ সতর্ক থাকলেও আমাদের বিমানবন্দর চরম উদাসীন। সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে চীন থেকে ব্যাংকক হয়ে অনেক লোক এসেছে। তাদের জন্য চেকআপের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

সাইফুল ইসলাম তানভীর,

বারিধারা, গুলশান, ঢাকা।

নিপাহ, ইবোলা, সার্স, মার্স ভাইরাসের মতো এখন এসেছে চীনের করোনা ভাইরাস। এর প্রভাবে এখন বিশ্বজুড়ে  অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মুক্ত রয়েছে, এটা আমাদের অবশ্যই স্বস্তির বিষয়। এ বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে অবশ্যই। তা-না হলে আতঙ্ক থেকেই যাবে।

সুগন্ধী আক্তার,

মতিঝিল, ঢাকা।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই আত্মঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে প্রথমেই চীন অথবা বহিরাগত যে কোনো দেশের বিশেষ করে বিমান যাত্রীদের দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ঐরূপ ভাইরাস আক্রান্ত কি-না তা ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তাছাড়া অন্য কোনো যানবাহন করে প্রবেশ করতে পারে সে বিষয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অতিসতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আর যদি কেউ ঐ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবে তাকে দ্রুত বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রেখে প্রয়োজনীয় চিকিত্সার ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া এ নিয়ে দেশের ভিতরে কোন ধরনের যাতে অপপ্রচার করতে না পারে সে বিষয় মিডিয়ার সবাইকে নজরদারিতে রাখতে হবে। তা-না হলে এই মারাত্মক ভাইরাস থেকে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করি।

আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাফিজুল

ইসলাম চৌধুরী (হিফজু),

হাউজিং এস্টেট, রাজশাহী-৬২০২।

নতুন করোনা ভাইরাস দ্রুত চীনে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী বাড়ছে আতঙ্ক। প্রায় এক মাস আগে চীনে নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে ২০টির বেশি দেশে। এটি অনেকটা সার্স ভাইরাসের মতো মানুষের মৃত্যু ডেকে আনছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সবচেয়ে বড়ো বিপদ হলো—এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিত্সা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো আপনা আপনি চলে যায়। নতুন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য কোনো ভ্যাকসিন নেই। আপাতত প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো—যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এই ভাইরাস বহন করছেন তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা, সব সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়া; অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। বাইরে বেরোনোর সময় মাস্ক ব্যবহার করুন। পোষা প্রাণী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এবং সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। অনেক সময় এটি মানুষের জন্যও প্রাণঘাতী রোগের কারণ হতে পারে। এটি প্রতিরোধের জন্য আতঙ্কিত না হয়ে বরং সতর্ক ও সচেতন থাকাটাই জরুরি।

মো. জিল্লুর রহমান

সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

আমি কোনো বিশেষজ্ঞ নই, তবে অতি সাধারণ মানুষ হিসেবে বলতে পারি করোনা ভাইরাস কেন, যে কোনো ব্যাপারেই সতর্ক থাকতে হয়, করোনার চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনায়ও কিন্তু কম লোক নিহত বা আহত হয় না, সে জন্য তো যাত্রা বন্ধ থাকে না, প্রয়োজনে সকল ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকতে হয়, তার পরও যখন কোনো কিছু ঘটে তার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, আতঙ্কিত না হয়ে বা না ছড়ায়ে কি করা যায় সে ব্যাপারে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে একটি ব্যাপারে বেশ সমস্যা দেখা যায়, তাহলো রাস্তা নোংরা করা অহেতুক যত্রতত্র কফ বা থুথু ফেলা, ধূম পানের পরে অবশিষ্ট অংশ যেখানে সেখানে ফেলা, খাবার শেষে যত্রতত্র প্যাকেট বা পানীয়র বোতল ফেলা, টং বা ছোটো ছোটো চায়ের দোকানগুলোর সামনের নোংরা অবস্থা। অনেক হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টয়লেটগুলোর অবস্থা তো ভয়ংকর। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরো আধুনিকায়ন করা। সমস্যা চিহ্নিত হলে সমাধান আসে হয়তো, কখনো দ্রুত বা কখনো একটু দেরিতে। সবাই ভালো থাকুন।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ,

মিরপুর, সেকশন-৬, ঢাকা

করোনা ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনই এর কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তাই প্রতিকার হিসেবে এ ভাইরাস বহনকারীদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। সতর্কতা হিসেবে ডাক্তারদের পরামর্শ হলো বারবার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা এবং ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরা। সেই সঙ্গে হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং ঠান্ডা ও ফ্লু আক্রান্ত মানুষ থেকে দূরে থাকাতে হবে।  এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। এর পরিণামে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ায় নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। তাই আক্রান্ত হলে তাত্ক্ষণিকভাবে ডাক্তারের পরামর্শমতো হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এর চিকিত্সা নিতে হবে। যেহেতু বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি, তাই নিরুদ্বিগ্নভাবে চেয়ে না থেকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

হক ভিলা, মেরাদিয়া, সিপাহীবাগ, ঢাকা।

করোনা ভাইরাস একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগ মানুষ ও পশুপাখি মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু করোনা ভাইরাস না, যে কোনো সংক্রমণ রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রস্তুতি সন্তোষজনক অবস্থা থেকে দূরে রয়েছে। তাই এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করা। তা না হলে এর ভয়াবহতার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ।

চীনসহ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের দেশ এখনো করোনা ঝুঁকি থেকে মুক্ত রয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে হবে। মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রি এবং সংরক্ষণে অব্যাহত ঢিলেঢালা মনোভাব, মানসম্মত কসাইখানা নির্মাণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ঔদাসীন্য নীতিনির্ধারকদের জানা দরকার।

চয়ন

কুতুবখালি, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

প্রতিরোধ প্রতিকার হতে উত্তম। চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে প্রায় চার শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিষয়ে আমাদের সর্তকতা অবলম্বন করা বিশেষভাবে প্রয়োজন। আমাদের দেশে গৃহপালিত হাঁঁস পানিতে বসবাস করে। তাদের শরীরে কোনোভাবে যদি করোনা ভাইরাসের জীবাণু প্রবেশ করে তাহলে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বাহিরে থেকে আশা এই অতিথি পাখি খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। করোনা ভাইরাসের পূর্বে চায়নায় সোয়ান ফ্লু হয়েছিল। সুতরাং আমাদের এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

খন্দকার কামরুজ্জামান

৩৬৩/১০, উত্তর পীরেরবাগ,

মিরপুর, ঢাকা।

চীনসহ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ কথা সত্য। যদিও বাংলাদেশে এখনো এ রোগের সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্ক থাকা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। সে জন্য সরকারি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে টিম গঠন করে সে বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা দিতে হবে। যাতে করে করোনা ভাইরাস কোনোভাবেই আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

মারুফুজ্জামান

খিলগাঁও, ঢাকা