লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা, ডাকাতিয়া ও সংযোগ খাল থেকে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোত্সব। গত কয়েক মাস যাবত্ শ্যালো মেশিনের ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় বালু দস্যুরা। এতে হুমকিতে পড়েছে নদীর তীরবর্তী উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশীর আশপাশের গ্রামের শত শত বিঘা ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর ঘরবাড়ি। অপরদিকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে ভুক্তভোগীরা সভা, সমাবেশ ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন। ফলে এবারের বর্ষায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। দক্ষিণ চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছালে মিন্টু ফরাজী ও উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আহম্মেদ জানান, বালু উত্তোলনের ফলে ১০-১২টি গ্রামের মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে আবাদি ফসলের। কাঁচা সড়কগুলো বিধ্বস্ত হয়ে এখন ট্রলি ব্যতীত অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এসব দেখেছেন। অথচ রহস্যজনক কারণে তারা নীরব।
সরজমিনে দেখা যায়, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চর ইন্দুরিয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘনা বাজারের পূর্ব পাশে এবং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের জালিয়ার চর গ্রামে মেঘনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে কতিপয় বালু ব্যবসায়ী। তারা ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা করে মূল্যে নিয়ে ঐ গ্রামের নিচু জমি ও পুকুর ভরাট করছে। এতে এরই মধ্যে নদীর তীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চলছে। আমরা বালু উত্তোলনে বেশ কয়েকটি ড্রেজার মেশিন নষ্টসহ পুড়িয়ে দিয়েছি। আবার অভিযান চালিয়ে মেশিন জব্দসহ মামলা দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী আনোয়ার মাঝি, হোসেন বাহাদুরসহ বেশ কয়েক জন জানান, বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আগামী বর্ষায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখে পড়ার আশঙ্কায় আমরা আতঙ্কিত। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। কোনো সুরাহা হয় নি। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান জানায়, সকালে বন্ধ করলে বিকালে আবার তারা বালু তোলা শুরু করে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আক্তার জাহান সাথী সংবাদ পেয়ে মেঘনা নদী থেকে দুইটি ড্রেজার মেশিন বিনষ্ট করেন। তিনি বলেন, এ অভিযান অবাহত থাকবে। এটা সঠিক যে, রায়পুর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে।
