ঘুরে ঘুরে বই কিনব

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৬

সারা বছরই বই কিনি। যত বই কিনি, নীড় তত বড়ো নয়। নীড় ছোটো, কিন্তু আকাশ বড়ো। সাধ্য কম, সাধ বেশি। সব বই পড়াও হয় না। তবু বহু বই দুই কপি তিন কপি করে কিনি। রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতা, নজরুলের সঞ্চিতা কি এক কপি রাখলে চলে? জীবনানন্দ দাশ, মানিক, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বা কারাগারের রোজনামচা দুই কপি করে কিনে রেখেছি, যাতে দরকারের সময় সহজে হাতের কাছে পাই। আপনারা হয়তো জানেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবর্গকে নিয়ে আমি একটা উপন্যাসধারা  লিখছি। যারা ভোর এনেছিল, উষার দুয়ারে, আলো-আঁধারের যাত্রী, এই পথে আলো জ্বেলে—এই চারটার পর এবার বইমেলায় বের হলো ‘এখানে থেমো না’। বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা থেকে এই কাহিনির শুরু, পাকিস্তান আন্দোলন, ১৯৪৮-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত পাঁচ খণ্ডে লিখতে পেরেছি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত। এই সিরিজ লিখতে গিয়ে আমাকে বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়, বহু বইপত্র দলিল ঘাঁটতে হয়। কোনো একটা বইয়ে দেখি গ্রন্থপঞ্জিতে আরো কতগুলো বইয়ের নাম দেওয়া। এখন এই বইটাও তো আমার দরকার। শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, বাংলাবাজার—কোথায় গেলে এই বইটা পাব? বইমেলায় আমার প্রথম কাজ হবে, প্রকাশকদের স্টলে স্টলে গিয়ে আমার সারা বছরের কাঙ্ক্ষিত বই খুঁজে বের করে কিনে ফেলা। কাজেই এবার বইমেলায় আমি ঢুকব ক্রেতা হিসেবে। প্রথমেই আমার অন্বিষ্ট বইগুলো কিনে ফেলব। এরপর আমি হয়তো একজন লেখক হিসেবেও বইমেলাকে দেখব।

এবারের বইমেলার আয়োজন খুব সুন্দর হয়েছে। লিটল ম্যাগাজিন উদ্যানে আনায় বিভাজন আর রইল না, তা খুব ভালো কথা। বড়ো বড়ো স্টল, সামনে অনেক জায়গা। স্বাধীনতা স্তম্ভটা দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও মহিমা নিয়ে, শহিদদের স্মৃতি নিয়ে। রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন, তাকে বঙ্গবন্ধু খেতাব দেওয়া হয়েছিল, ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ ফিরে এসে তিনি এখানে ভাষণ দিয়েছিলেন, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করেছিল। সেই ঐতিহাসিক মাঠে সুন্দরতম বইমেলা আমাদের নিয়ে যাবে মুজিববর্ষে। আমরা যেন অনেক পড়ি। আমরা যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষণহীন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করি।