বিএনপির পুনর্নির্বাচনের দাবি মামাবাড়ির আবদার :কাদের

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৬

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির পুনর্নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ‘পুনর্নির্বাচন, এটা মামাবাড়ির আবদার। এই নির্বাচনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হয়েছে এটা কেউ বলবে না। এই নির্বাচনে কারচুপি-জালিয়াতি করার কোনো সুযোগ নেই। যদি নির্বাচনটা কোনো প্রকার জালিয়াতি-কারচুপির হতো তাহলে টার্ন আউট অনেক বেশি হতে পারত। টার্ন আউট যেখানে ত্রিশেরও নিচে এটা তাহলে কেন? কারচুপি-জালিয়াতি করলে তো উপস্থিতি এতো কম হওয়ার কথা না। কারচুপি যাতে না হয় সেজন্য ইভিএমের ডিজিটাল ব্যবস্থা।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি           এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন বলার জন্য বলছে, বিরোধিতা করছে। কিন্তু তারাও জানে এই নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হয়েছে। ছোটো-খাটো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। এটা অত্যন্ত মাইনর। কোনো ধরনের সহিংসতা ছিল না। একেবারেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। ভোট যেটাই হোক জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত হয়েছে। সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান ও বক্তব্য জানতে চাইলে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পৃথিবীর যারা উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে, আমি আমেরিকার কথা বলি, তাদের কত পার্সেন্ট লোক টার্ন আউট করে? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তো দুনিয়ার গণতন্ত্রের সবচেয়ে অ্যারিস্ট্রোকেট (অভিজাত) নির্বাচন। সেই নির্বাচনে কেমন টার্ন আউট হয়? উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে টার্ন আউট কেমন? এজন্য সেসব দেশের অবনতি কী ঘটছে, গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে?’ তিনি বলেন, টার্ন আউট কম হতে পারে। কারণ ইভিএম আমাদের এখানে প্রথম অভিজ্ঞতা, পুরো ঢাকা জুড়ে ইভিএম এর আগে ব্যবহার হয়নি। নতুন সিস্টেমের একটি বিষয় আছে। ছুটির বিষয় ছিল। এরকম কিছু কিছু অবস্থার উদ্ভব হয়েছে। আর আমাদের মধ্যেও দুর্বলতা অবশ্যই আছে। সেটা আমরা খতিয়ে দেখব। ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করব। নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ভালো নির্বাচন হয়েছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে যে সংঘাতের আশঙ্কা ছিল সেটা হয়নি। এটা অবশ্যই স্বস্তিদায়ক এবং এর কৃতিত্ব নির্বাচন কমিশনের।’

সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বাইরে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে কেউ কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী কাউন্সিলর হয়েছে—এদের বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা) দেশে ফিরলে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হবে। সেখানে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।