সুনামগঞ্জে হাওরে বাঁধ সংস্কারকাজে ধীরগতি

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৫০

এবার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুনামগঞ্জের ১৫৪টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে ধীরগতিতে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

৬৩৩ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের কাজে চাহিদা ধরা হয়েছে ১৩২ কোটি টাকা। অন্যদিকে সুনামগঞ্জের হাওরে ১৩৫টি ক্লোজার নির্মাণও চলছে ধীরগতিতে। তাই অনেক হাওর থেকে পানি নামছে না। তাই ঐ সব হাওরে বোরো চাষ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্পের মেয়াদ গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিকে কোনো কোনো এলাকায় হাওর রক্ষা বাঁধে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবদুল আহাদও জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের কাজের মান ও গতি দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি এর জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তবে পাউবো কর্মকর্তারা বলেছেন, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত গড়ে ৪১ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কাজের মানের ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত আন্তরিক।

চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার ১৫৪টি হাওরের ইরি-বোরো ফসল রক্ষায় ৬৩৩ দশমিক ৬৯১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্য ১৩২ কোটি ১৭ লাখ ৬১ হাজার টাকার চাহিদা পাঠালে চাহিদার বিপরীতে ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ৩৫ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে আরো অর্থ অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানান কর্মকর্তারা। ৭৪৪ পিআইসি বা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এই বাঁধের কাজ করছে। পুরো কাজের মনিটরিংসহ নিয়ন্ত্রণ করছে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। গত বছর ৪৫১ দশমিক ১৩৮ কিলোমিটার বাঁধের সংস্কার করা হয়। এবার ১৮২ কিলোমিটার বেশি এলাকায় বাঁধ সংস্কার হবে। 

স্থানীয়রা জানান, আগে শ্রমিকেরা মাটির কাজ করলেও বর্তমানে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি খনন ও মাটি ফেলার কাজ হচ্ছে। অনেক স্থানে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে প্রকল্পের  লোকজন জিম্মি হয়ে আছে। এর ফলে বাঁধের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। সদর উপজেলার খরচার হাওরের ৬ নম্বর প্রকল্প কমিটির সদস্যসচিব রথীন্দ্র কুমার রায় বলেন, হাওরের পানি দেরিতে নামা, এক্সকাভেটর মেশিন সংকটের কারণে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি যথাসময়ে কাজ শুরু করতে পারেনি।

সদর উপজেলায় গৃহীত ২৭টি প্রকল্পের মধ্যে ১৪টির কাজ স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ও আমন জমিতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার অক্ষয়নগর গ্রামে আমন জমিতে বাঁধ নির্মাণকাজের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় উপজেলা প্রশাসন।

তাহিরপুর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, শনির হাওর, হালির হাওর ও গুরমার হাওরে এখনো পানি আটকে থাকায় বাঁধের কাজ শুরু করা যায়নি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু হবে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবারই অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অন্ত  থাকে না। এবার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প যোগ হয়েছে। পাউবো সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-২) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিদিন তারা বাঁধগুলো পরিদর্শন করছেন।