মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। উপজেলার বায়রা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রিপন হোসেন লেবু (৪৫) জামালপুর গ্রামের মুসলেম বেপারীর ছেলে। এদিকে এ খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বায়রা বাজারের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে থমথম পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শহিদ জানান, এলাকার চিহ্নিত খুনি হায়দার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য লেবুকে খুন করে অন্য মামলার হাজিরা দিতে মানিকগঞ্জে চলে যান। সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগে হায়দারের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। তার অপকর্মের প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীদের নিয়ে হায়দার লেবুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে বলে তিনি জানান।
যদিও বায়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান জিন্নাহ লাটু বলেন, হায়দার ও লেবু উভয়ই সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। দুই জনই এক সময় বিএনপির লোক ছিল। বিএনপির সময় সংখ্যালঘু সরস্বতী হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা সোহেল দেওয়ানের স ে২ নম্বর আসামি ছিল নিহত এই লেবু। এদিকে একথা বলার পর লেবু সমর্থিত বায়রা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মহিদুর ও সেক্রেটারি সেন্টু ও মারুফ গংরা ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা ও সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনের উপস্থিতেই আক্রমণ করে চেয়ারম্যানের ওপর। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পুলিশের সহায়তায় চেয়ারম্যান পরিষদ ভবন ত্যাগ করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার সিংগাইর সার্কেলের মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাধান্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই হায়দার লেবুকে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
