অন্তত টেস্টের বিবেচনায় দুঃস্বপ্নের মতো একটা বছর কেটেছে ২০১৯ সালে। এই বছরে জয় তো দূরে থাক, একটা ম্যাচ ড্রও করতে পারেনি বাংলাদেশ। বছরটাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টায় কমতি নেই। সেই চেষ্টাতেই আজ পাকিস্তানের মাটিতে নতুন বছরের প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ।
১৬ বছর পর আজ পাকিস্তানের মাটিতে আবার টেস্ট শুরু করবে বাংলাদেশ দল। আজ বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হবে এই টেস্ট।
সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই দেশে টেস্ট খেলেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন দল। অনেক গুঞ্জন, আলোচনার পর বুধবার সকালে রাওয়ালপিন্ডিতে পৌঁছেছে মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন দল। গতকাল মুমিনুল হক বললেন, ব্যর্থতা কাটিয়ে নতুন শুরু করাই তাদের পাকিস্তান সফরের লক্ষ্য।
পাকিস্তান সফর বাংলাদেশ করবে কি না, এ নিয়ে সংশয় ছিল। সর্বশেষ গত মাসে দুবাইতে পিসিবি ও বিসিবির আলোচনায় ঠিক হয় তিন দফায় পাকিস্তান সফর করবে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে প্রথম দফায় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে এসেছে। এই দফায় রাওয়ালপিন্ডিতে একটি টেস্ট খেলে ফিরে আসবে দল। আর তৃতীয় দফায় তারা করাচিতে খেলবে একটি টেস্ট ও একটি ওয়ানডে।
বাংলাদেশের জন্য এই টেস্টটি সব অর্থেই পরীক্ষার নাম। এই টেস্ট খেলতে হবে বাংলাদেশকে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমকে ছাড়া। মিডল অর্ডারের এই দুই ভরসাকে পাচ্ছে না তারা। সাকিব আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় আছেন। আর মুশফিক পাকিস্তান সফর থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অধিনায়ক, কোচ বার বার বলেছেন, এই দুজনকে ছাড়া খেলাটা খুব কঠিন হবে।
তবে ভরসার কথা মাঝে ইনজুরি ও পারিবারিক কারণে অনুপস্থিত থাকা তামিম ইকবাল ফিরে এসেছেন দলে। তিনি সম্প্রতি বিসিএলে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে একটা ভরসাও দিচ্ছেন। তামিম ছাড়াও বিসিএলে সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস, মুমিনুল হক।
রাওয়ালপিন্ডির উইকেট হতে পারে বোলিং সহায়ক। তেমন হলে পাকিস্তানি তরুণ পেসারদের সামলানো বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। বাংলাদেশের একাদশে খুব একটা চমক থাকবে না। একরকম ধারণা দিয়েই রেখেছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।
পাকিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ডটা বাংলাদেশকে ভাবনায় রাখবে। এই দলটার বিপক্ষে বাংলাদেশ কখনো টেস্ট জেতেনি। ১০টি ম্যাচ খেলে ৯টিতেই হেরেছে; একটি ড্র আছে। পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশ ৪টি টেস্ট খেলেছে; সবগুলোই হেরেছে এখানে। তবে সর্বশেষ সফরে মুলতানে মাত্র ১ উইকেটে হারতে হয়েছিল একটি প্রায় হাতের মুঠোর ম্যাচ।
