বিদেশে অবৈধ অর্থ পাচার

ইন্টারপোলের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের ফেরত আনবে দুদক

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:১২

দেশের বাইরে পাচার করা এক ব্যবসায়ীর অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুর্নীতির মামলায় পলাতক আসামিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনা হবে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য শিগগিরই দুদকের একটি টিম সিঙ্গাপুর যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ডে কেয়ার সেন্টার উদ্বোধনকালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এসব তথ্য জানান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতি মামলার আসামিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। অর্থপাচারের বিষয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে তথ্য পাচ্ছি। এই তথ্যের ভিত্তিতে দুদক থেকে টিম পাঠানোর চিন্তা-ভাবনা করছি। ’

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিঙ্গাপুরসহ আমাদের আশপাশের দেশগুলো থেকে আমরা তথ্য পাচ্ছি। কমিশন থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে কীভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় ঐসব দেশের আদালতের সহায়তায় অপরাধীদের সম্পদ জব্দ করা যায় এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। কমিশনের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই হংকংয়ের আদালতের সহায়তায় কিছু অবৈধ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এটি একটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেখা যায় ব্যবসাকেন্দ্রিক মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমেই সর্বাধিক অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে দুদক কার্যালয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি, পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় এ জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘শুধু ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতার বিষয়েই নয়, আমরা আরো বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি যার ভিত্তিতে খুব শিগগিরই সিঙ্গাপুরে টিম পাঠানো হবে। যারা অবৈধ বা পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনবে। আর বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের বিষয়ে খুব শিগগিরই ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হচ্ছি আমরা।’ দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘অর্থ পাচার শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়। এটি  বৈশ্বিক সমস্যা, আমাদের আশপাশের দেশগুলোতেও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক উন্নয়নও হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এভাবে যারা সরকারি অর্থ আত্মসাত্ করে বিদেশে পাচার করছেন, তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যে বা যারা অবৈধভাবে ব্যাংকের বা সরকারি অর্থ আত্মসাত্ করে, তা পাচার করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবন-যাপন করছেন, তাদের প্রত্যেককেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে একটি ডে কেয়ার সেন্টারের উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এসময় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্তসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।