বেসিস সফটএক্সপোতে রাষ্ট্রপতি

সাইবার অপরাধ রোধে নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করুন

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৩২

মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

সাইবার অপরাধ রোধে অন্যের মুখাপেক্ষি না হয়ে নিজস্ব উদ্ভাবনের উপর জোর দিতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন দেশের বিপুল মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানের সফটওয়্যার সল্যুশন উদ্ভাবনের কাজকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে মেড ইন বাংলাদেশ পণ্য ও সফটওয়্যারের প্রচারের জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ট্রান্সফর্মিং লাইফ থ্রু ইনোভেশন স্লোগান নিয়ে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে শুরু হলো চার দিনব্যাপী দক্ষিণ এশিয়ার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতভিত্তিক সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ১৬তম বেসিস সফটএক্সপো ২০২০। চলবে ৯ ফেরুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার ১৬তম বেসিস সফটএক্সপো’র উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, এমপি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, পিএএ।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি (অর্থ) ও বেসিস সফটএক্সপোর আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডর চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেসিস এর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান, সহ-সভাপতি (প্রশাসন) শোয়েব আহমেদ মাসুদ, পরিচালক তামজিদ সিদ্দিক স্পন্দন ও পরিচালক দিদারুল আলম। বেসিস সফটএক্সপো ২০২০ প্রসঙ্গে বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো দেশে বিদেশে অনেক বড়ো বড়ো প্রকল্পে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। সেজন্য দেশের সকল কাজ বিদেশিদের দিয়ে করা গেলেও তা স্থানীয় কোম্পানিদের দিয়েই বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে। এজন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

বেসিস সফটএক্সপো ২০২০-এর আহ্বায়ক এবং বেসিসের সহ-সভাপতি (অর্থ) মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রদর্শনী এলাকাকে দশটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ জোন এবং এক্সপেরিয়েন্স জোন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরবে। রয়েছে ভ্যাট জোন, ডিজিটাল এডুকেশন জোন, ফিনটেক জোন, উইমেন জোন এবং বরাবরের মতো রয়েছে সফটওয়্যার সেবা প্রদর্শনী জোন, উদ্ভাবনী মোবাইল সেবা জোন, ডিজিটাল কমার্স জোন, আইটিইএস ও বিপিও জোন। থাকবে ৩০টিরও বেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সেমিনার, যেখানে বক্তব্য রাখবেন শতাধিক দেশি-বিদেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।

ডিবিবিএল-এর চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ বলেন, স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিরলস অবদানের কারণেই।

বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সরকার ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল গভর্নেন্স বাস্তবায়ন, ২০ লক্ষ তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, ২০২৪ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করা এবং জিডিপিতে তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে ৫% অবদান রাখার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বেসিসের এই আয়োজন সরকারের জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ তৈরির কাজে এগিয়ে যাবে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ছে আর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে। বর্তমানে দেশের ৯৬% পরিবারে মোবাইল ব্যবহার করছে। বাঙালিরা মেধাবী, বিশ্বের দরবারে বাঙালিরা তাদের মেধার পরিচয় রেখেছে। তিনি আরো বলেন, সফটওয়্যার রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে। আইটিতে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি হলে তা দিয়ে দেশের বাইরে জনশক্তি রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন সম্ভব। আমাদের ভৌগলিক সুবিধা এবং তরুণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আউটসোর্সিংয়েও  বাংলাদেশ আরও ভালো করতে পারবে। 

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আরো বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকার গৃহিত বিভিন্ন উদ্যোগ বিশেষত, ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর্পোরেট ট্যাক্স মওকুফ, সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানি আয়ে ১০% নগদ প্রণোদনার উল্লেখ করে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আমি মনে করি। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব এখন এগিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করেছে, এবং তা বাস্তবায়ন করছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে তাল মেলাতে আমাদের তরুণ সমাজকে কাজে লাগাতে হবে কারণ তারাই আমাদের সমপদ। আমাদের মেধাবী তরুণরা বাহিরে কাজ করছে , যথাযথ সুযোগ তৈরি করতে পারলে এরা দেশেই কাজ করতে পারবে।

গতকাল ছিল  বেসিস সফটএক্সপোর দ্বিতীয় দিন। ছুটির দিন হওয়ায় মেলার স্টলগুলোতে দেখা গিয়েছে উপচে পড়া ভিড়। 

মেলা পরিদর্শনে এসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, মেলায় বিভিন্ন ইনোভেটিভ প্রজেক্ট শো দেখা যাবে, এটা অনেক বড় একটা সুযোগ আমাদের জন্য। তাছাড়া আমাদের মতো যারা আউটসোর্সিংয়ে আগ্রহী তাদের জন্য এটা অনেক বড় একটা প্লাটফর্ম, জানার জন্য ও শেখার জন্য।

সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় অনেক অভিভাবকদের সন্তানকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসতে দেখা গিয়েছে। এমনই এক অভিভাবক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে আমাদের দেশ নিয়মিত এগিয়ে যাচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এই মেলায় অনেক শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে। যারা লেখাপড়ার পাশাপাশি নানান রকম তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কাজ করতে চায়, তারা এই মেলায় অংশগ্রহণ করা দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কথা শুনে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হতে পারবে। তরুণরাই হলো আগামী দিনের ভবিষ্যত, তাই প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত্ সন্তানকে ডিজিটাল শিক্ষায় আগ্রহী করতে এ ধরনের মেলায় নিয়ে আসা। পূর্বপরিকল্পনা ও ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল ১০টা থেকেই আইসিসিবিতে দেশি-বিদেশি সফটওয়্যার কোমপানিগুলো তাদের স্টলগুলোতে নিজ নিজ পণ্য ও সেবা  প্রদর্শন শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ২০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যামপ। রয়েছে ৪৫টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইনোভেটিভ প্রজেক্ট শো-কেসিং, যাদের মধ্যে প্রথম তিনটি ইনোভেটিভ প্রজেক্টকে পুরষ্কৃত করা হবে। থাকছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আউটসোর্সিং কনফারেন্স। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে সিএক্সও লিডারশিপ মিট।