আজহার মাহমুদ, চট্টগ্রাম অফিস
দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে একটি চট্টগ্রামের পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোড। পাঁচ বছর ধরে সড়কটি ভেঙেচুরে বেহাল অবস্থা ধারণ করেছে। ২৫ মাস ধরে চলছে সংস্কার। এ পর্যন্ত ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ কবে শেষ হবে তার নিশ্চয়তা মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, লোকসান ঠেকাতে কাজ না করেই চলে যেতে চাইছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানির মালবাহী কনটেনার ট্রাক ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানের যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে এ সড়কে। সড়কটি ঘিরে স্থানীয় ৫ লক্ষাধিক লোকের নিত্য চলাচল। একদিকে স্থানীয়রা সড়কে চলাচলে নরকযন্ত্রণা ভোগ করছেন, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী যাত্রীরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিভিন্ন যানবাহন গর্তে পড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সংস্কারকাজ চলমান সড়কটির আয়তন পাঁচ কিলোমিটারের বেশি। শুরুতে ১ দশমিক ৬৭৫ ও ১ দশমিক ৬৮২ কিলোমিটার করে দুই লটের কাজ শুরু হয়। এরপর দেড় কিলোমিটারের কাজ অন্য লটে শুরু হয়। বাকি ৭০০ মিটার অংশের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। সংস্কারকাজ চলা এই অংশে নিত্য যানজট, বর্ষায় কাদাজল, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে একাকার থাকে সড়কের ঐ অংশ।
মূলত, ঠিকাদারের চরম গাফিলতির কারণে কাজে গতি নেই। কাজের তদারকি সংস্থা চসিকের ওপরও ক্ষোভ ঝারছেন স্থানীয়রা। যদিও সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দাবি, ছয়বার ওয়ার্ক শিডিউল নবায়ন করার পরও কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন তারা। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, ‘সড়কটির কাজ মোট চারটি লটে হচ্ছে। প্রথম দুই লটের কাজ শেষ করার মেয়াদ শেষ হয়েছে। জাইকার নির্দেশনায় আমরা সময়ও দিয়েছি। এখন আমরা আর সময় দিতে রাজি নই।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ (ষষ্ঠবার) দেওয়া ওয়ার্ক শিডিউল অনুযায়ী, গত ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ‘গাফিলতি’ থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রানা বিল্ডার্স’র ‘পারফরমেন্স সিকিউরিটি’ হিসেবে জমা দেওয়া ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে চসিক। চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ জানান, ‘ঠিকাদারকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত শেষ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সময় চাইলে সেটা গ্যারেন্টেড হবে না।’ সড়কটির সংস্কারে ঠিকাদার নিয়োগ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলমান উন্নয়নকাজের মনিটরিং করে চসিক। প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মো. আবু তৈয়্যব বলেন, সর্বশেষ নেওয়া সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির নয়াবাজার, সরাইপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে বড়ো আকৃতির গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে ময়লা পানি জমে আছে। যানবাহন চলাচলের সময় চরম বেকায়দায় পড়ছেন যাত্রী ও চালকরা।
যে কারণে কাজে অনীহা ঠিকাদারের : ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্সও কাজ পাওয়ার জন্য কম দরে কাজ নিয়েছিল। জানা গেছে, যে দরে কাজ নেওয়া হয়েছে সে দরে কাজ করলে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হবে। এ কারণে তাদের মধ্যে শুরু থেকেই কাজ না করে চলে যাওয়ার প্রবণতা ছিল। চসিকের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী আবু সালেহ ইত্তেফাককে বলেন, কাজ না করে চলে যাওয়া সহজ নয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাকির হোসেন দাবি করেন, ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তারা কাজ শেষ না করে যাবেন না। ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি কাজ শেষ করবেন।
