কর্মহীন প্রায় ১৯ হাজার বদলি শ্রমিক

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২২

খুলনার ৯ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল

এনামুল হক, খুলনা অফিস

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মিলগুলোর বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিজেএমসি। কবে কাজ মিলবে কিংবা আদৌ আর কাজ মিলবে কি না এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই বিজেএমসির। এতে চরম বিপাকে পড়েছে খুলনা অঞ্চলের  রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের তালিকাভুক্ত প্রায় ১৯ হাজার শ্রমিক। ফলে অর্থসংকটসহ অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের অস্থায়ী শ্রমিকদের।

বিজেএমসি সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে ১৮ হাজার ৩৭৩ জন বদলি (অস্থায়ী শ্রমিক) শ্রমিক রয়েছে। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাভুক্ত মিলগুলো থেকে বদলিভিত্তিক শ্রমিকদের কাজে না লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর বিজেএমসির মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন মো. নাসিমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় আবারও ১৫ জানুয়ারি এবং তৃতীয় দফায় ২৮ জানুয়ারি সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বিজেএমসির মিলসমূহে বদলি শ্রমিক নিয়োজিত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মিলের যে সকল স্থানে বদলি শ্রমিক প্রয়োজন বা কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে তার যৌক্তিকতার বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলে ১৬০ জন, ক্রিসেন্ট জুট মিলে ৬০৯ জন, স্টার জুট মিলে ১০০ জন, কার্পেটিং জুট মিলে ১৪১ জন, জেজেআইয়ে ১৫০ জন ও ইস্টার্ন জুট মিলে ৭০ জন বদলি শ্রমিককে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রাখার জন্য তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে। এর জন্য যথাযথ যুক্তি উপস্থাপন করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

মিল শ্রমিকরা জানান, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে বদলি শ্রমিকদের কাজ দেওয়া বন্ধ রেখেছে বিজেএমসি। ফলে একদিকে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে, অপরদিকে তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। কাজ না থাকা বদলি শ্রমিক আক্কাস আলী জানান, বদলি শ্রমিকের কাজ করে যে মজুরি পেতাম তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলতো। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে কাজ না থাকায় ছেলেমেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

বদলি শ্রমিক রাজন জানান, মিলে পর্যাপ্ত পাট ক্রয়ের মাধ্যমে পূর্ণ উত্পাদনে গেলে হয়তো আমাদের কাজ হারাতে হতো না। তিনি মিলের পাট ক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আবারও কাজে লাগানোর দাবি জানান। প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, বদলি শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের পরিবারে মানবেতর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান খান মো. কামরুল ইসলাম বলেন, মিলের স্থায়ী শ্রমিকের অনুপস্থিতে বদলি শ্রমিকদের কাজ দেওয়া হতো। বর্তমানে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ মিলের স্বার্থে উত্পাদন খরচ কমাতে যথাযথ কারণ ও প্রয়োজন ছাড়া বদলি হিসেবে কাজে লাগাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এটি মিলের স্বার্থে করা হচ্ছে।

বিজেএমসি খুলনা জোনাল প্রধান বনিজউদ্দিন মিঞা বলেন, অপ্রয়োজনে শ্রমিক লাগিয়ে উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে মিলগুলোতে পর্যাপ্ত পাট ক্রয়ের মাধ্যমে উত্পাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিলে আবারও বদলি শ্রমিকরা কাজ পাবে বলে আশা করছি।