কাপ্তাইয়ে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২২

লেকে নৌভ্রমণে আকর্ষণ বেশি

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

পাহাড়, নদী, লেক, সমতল-অসমতল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা কাপ্তাই সবসময় পর্যটকদের কাছে টানে। এছাড়া নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকে পর্যটন মৌসুম। কাপ্তাইয়ে এখন চলছে পর্যটন মৌসুম। তাই এখন সর্বত্র পর্যটকের ঢল দেখা যায়। কাপ্তাই লেকে নৌভ্রমণে পর্যটকদের আকর্ষণ বেশি পরিলক্ষিত হয়।

কাপ্তাইয়ে বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র। এর মধ্যে রয়েছে বিজিবি পরিচালিত জুম রেস্তোরাঁ, সেনাবাহিনীর ২৩ ইস্ট বেঙ্গল পরিচালিত লেক ভিউ আইল্যান্ড, নৌবাহিনী পরিচালিত লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট, ৭ আরই ব্যাটালিয়ন পরিচালিত লেকশোর পিকনিক স্পট, বন বিভাগ পরিচালিত ন্যাশন্যাল পার্ক, প্রশান্তি পিকনিক স্পট, বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র বনশ্রী, কর্ণফুলী ভিউ ক্লাব ইত্যাদি। সম্প্রতি বিজিবি পরিচালিত জুম রেস্তোরাঁয় সম্প্রতি সংযোজন করা হয়েছে ইলেকট্রিক ট্রেন। ইলেকট্রিক ট্রেনের আকর্ষণে নারী পুরুষ শিশু কিশোর সবাই জুম রেস্তোরাঁয় ভিড় করছেন।

ছুটির দিন বা অন্য যে কোনো সময় কাপ্তাই লেকে নৌভ্রমণে পর্যটকদের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিপুলসংখ্যক পর্যটকদের দেখা গেছে রঙিন বোটে চড়ে কাপ্তাই লেকে নৌভ্রমণ করছেন। কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ পানিতে ইঞ্জিনবোট সাজিয়ে নৌভ্রমণ করার জন্য অনেকে বোট রিজার্ভ করেন।

কাপ্তাই জেটিঘাট বোটচালক সমিতির সভাপতি মো. ইব্রাহিম জানান, আমাদের কাছে বিভিন্ন আকারের ইঞ্জিনবোট রয়েছে। সর্বনিম্ন ২৫ জন থেকে ২৫০ জন পর্যন্ত ধারণক্ষমতা রয়েছে এসব ইঞ্জিনবোটে। ছুটির দিনে বেশ কয়েকটি বোট ভাড়া হয়। অনেকে সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া করেন। বোটের ভেতরে এবং ছাদে বসার জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক প্লাস্টিকের চেয়ারও রাখা হয়।

চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে মিনহাজউদ্দীন নামক এক ব্যক্তি জানান, তারা নৌভ্রমণের জন্য দুইটি বোট ভাড়া করেছেন। ঐ দুইটি বোটে শতাধিক পর্যটক নিয়ে তারা কাপ্তাই লেকে নৌভ্রমণ করেন বলে জানান। সীতাকুন্ড থেকে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রায় ৩০০ পর্যটক কাপ্তাই বেড়াতে আসেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম। সারাদিন কাপ্তাই ঘুরে বেড়ালেও নৌভ্রমণ তাদের কাছে বাড়তি আনন্দের ছিল বলেও তিনি জানান। বিনোদন কেন্দ্র প্রশান্তি পার্কের ম্যানেজার মো. মাসুদ তালুকদার জানান, প্রশান্তি পার্কে বিনোদনের পাশাপাশি এখানে পর্যটকদের জন্য চাহিদানুযায়ী খাবার পরিবেশনেরও ব্যবস্থা আছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় মঞ্চ। ছুটির দিনে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন বলে তিনি জানান।