বিসিএল
স্পোর্টস রিপোর্টার
পাকিস্তান সফরের টেস্ট দলে নির্বাচকদের বিবেচনায় ছিলেন তাসকিন আহমেদ। বিশেষ করে রাওয়ালপিন্ডির পেস সহায়ক উইকেটে তার গতিময় বোলিংটা কাজে লাগানোর চিন্তা করেছিলেন নির্বাচকরা। কিন্তু ওমরাহ করে দেশে ফিরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডের বোলিংয়ে নেমে মাসল ক্র্যাম্প করায় ৯.২ ওভারের বেশি বোলিং করতে পারেননি তাসকিন। তাই ফিটনেস ঘাটতির কারণে আর টেস্ট দলে জায়গা হয়নি এই ডানহাতি পেসারের। সুযোগ পেয়ে যান রুবেল হোসেন।
গতকাল বাংলাদেশ দল যখন রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলতে নামে তার আগে সিলেটে তাসকিনের বোলিং তোপে পুড়েছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। বিসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে গতকাল ডানহাতি এই পেসারের আগুনে বোলিংয়ে উত্তরাঞ্চলের বিরুদ্ধে মধ্যাঞ্চলের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে ১৭০ রানে। ৫৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। পরে ৩ উইকেটে ৮৯ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করেছে উত্তরাঞ্চল। নাঈম ইসলাম ১৮, মুশফিক ১ রানে ব্যাট করছেন।
কক্সবাজারে অবশ্য গতকাল সেঞ্চুরির মিছিলই হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের এনামুল হক বিজয়, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান সেঞ্চুরি করেছেন। তাদের সেঞ্চুরিতে রান পাহাড়ে চড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ইনিংসের স্কোর। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৪৩ রান। নুরুল হাসান সোহান ১৫৫ ও ফরহাদ রেজা ৯ রানে অপরাজিত আছেন।
সিলেটে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা মধ্যাঞ্চলকে কাঁপিয়ে দেন তাসকিন। ৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে মধ্যাঞ্চল। মার্শাল আইয়ুব (১), আব্দুল মজিদ (৫), তাইবুর রহমানকে (০) ফেরান তাসকিন। পরে লোয়ার অর্ডারে শহীদুল (৫), মুকিদুলকেও (১১) নিজের শিকার বানান তিনি। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট পেলেন তাসকিন। তারপরও মধ্যাঞ্চলের স্কোরটা ১০০ ছাড়িয়েছে রকিবুলের ৭০, শুভাগত হোমের ২১, জাকের আলীর ১৯ ও আরাফাত সানির অপরাজিত ২৫ রানে। উত্তরাঞ্চলের সালাউদ্দিন শাকিল দুটি, সুমন খান, আরিফুল, এনামুল জুনিয়র একটি করে উইকেট নেন।
বোলিংয়ের পর ব্যাটিংটাও খারাপ হয়নি উত্তরাঞ্চলের। রনি তালুকদার-জুনায়েদ সিদ্দিকীর ৬৯ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙেছেন শুভাগত। রনি ১৯ রান করে আউট হন। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (০) দ্রুত ফিরলেও দিনের খেলা শেষ হওয়ার ৫ ওভার আগে জুনায়েদ ৪৭ রান করে মুস্তাফিজের শিকার হন।
কক্সবাজারে দক্ষিণাঞ্চলের শুরুটাও ছিল বিপর্যস্ত। পূর্বাঞ্চলের পেসার রেজাউর রহমান রেজার তোপে ১৬ রানে ৩ উইকেট হারায় দক্ষিণাঞ্চল। শাহরিয়ার নাফিস (১), ফজলে মাহমুদ (১২), শামসুর (০) ফিরেন সাজঘরে। দলীয় ৬১ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন আল-আমিন জুনিয়র (১৮)। তারপর দিনের বাকি সময়টা রান উত্সব করেছে দক্ষিণাঞ্চল। বিজয়, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসানরা সেঞ্চুরি করেছেন। পঞ্চম উইকেটে বিজয়-সোহান ১৯০ রানের জুটি গড়েন। ষষ্ঠ উইকেটে সোহান-মেহেদী ১৭৫ রান যোগ করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের ২১তম সেঞ্চুরি করা বিজয় ১২৯ রান (১৪ চার, ৪ ছয়) করে রানআউট হন। ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করা মেহেদী হাসান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। ৮৫ বলে ১১২ রান (১০ চার, ৮ ছয়) করেন তিনি। নবম সেঞ্চুরিটাকে বড়ো করছেন সোহান। ১৫০ ছাড়িয়ে গেছেন। ২২০ বলে ১৫৫ রানে (১৯ চার, ৩ ছয়) অপরাজিত রয়েছেন তিনি।
