রাওয়ালপিন্ডি
দর্শন
পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশ দল এর আগে আরো দুইবার টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে। সেখানে খেলেছে মোট চারটি টেস্ট। ২০০১ সালে একটি ও ২০০৩ সালে তিনটি।
এর মধ্যে দুটি টেস্ট খেলেছে মুলতানে। আর একটি করে খেলেছে করাচি ও পেশোয়ারে। এর অর্থ হলো এবারই প্রথমবারের মতো রাওয়ালপিন্ডিতে টেস্ট খেলতে নামল বাংলাদেশ দল। তবে, এর আগেই অবশ্য রাওয়ালপিন্ডিতে একটা ওয়ানডে খেলা হয়ে গেছে বাংলাদেশের।
২০০৩ সালের সফরের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল পাঁচ উইকেটের ব্যবধানে।
সাইফের দুর্ভাগ্য
টেস্টে নিজের অভিষেক ইনিংসটা নিশ্চয়ই কখনো মনে রাখতে চাইবেন না সাইফ হাসান। রাওয়ালপিন্ডিতে গতকাল অভিষেকে কোনো রান তোলার আগেই মোহাম্মদ আব্বাসের বলে সাজঘরে ফিরে যান সাইফ। ২১ বছর বয়সি ডান হাতি এই ব্যাটসম্যানের আগে টেস্ট অভিষেকে ডাক মেরেছেন ৬১৭ জন ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে বাংলাদেশে আছেন ২২ জন। ৬১৭ জনের ভিতরে ৪৪ জন আবার দুই ইনিংসেই রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন। এর মধ্যে বাংলাদেশি দুই জন—আলমগীর কবির ও কামরুল ইসলাম রাব্বী। একটা জায়গায় সাইফ বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রথম। কারণ, ওপেনার হিসেবে বাংলাদেশের মধ্যে এর আগে আর কারো নামই এই লজ্জার রেকর্ডে ওঠেনি। তিনি ছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে এমন লজ্জার মুখে পড়েছিলেন আরো ৭১ জন ওপেনার। অভিষেক ইনিংসে ‘ডাক’-এর পর ঐ টেস্টেরই দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করার কীর্তি আছে ২১ জনের, সেঞ্চুরি আছে ৪ জনের। সাইফ চাইলে এই রেকর্ডটা মাথায় রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামতে পারেন।
৩৩৪-এর পর ৩
পাকিস্তানের মাটিতে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমস্যায় ভুগলেও কম বেশি রান তিন ম্যাচেই তুলেছিলেন তামিম ইকবাল। এরপর দেশে ফিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ম্যাচে পূর্বাঞ্চলের হয়ে পেয়ে যান দারুণ এক ট্রিপল সেঞ্চুরি। ৩৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটা বাংলাদেশের ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। যদিও, এর ধারাবাহিকতাটা রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে রাখতে পারলেন না তামিম। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের এই ওপেনার এদিন করেন মাত্র তিন রান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্ভাগ্য যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না তার।
মুমিনুলের টানা ছয়
সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে টেস্টে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকেই যেন সময়টা ভালো কাটছে না মুমিনুল হকের। টেস্টে বাংলাদেশের অন্যতম সফল এই ব্যাটসম্যান সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। এরপর ছয়টি ইনিংস পেরিয়ে গেলেও এখন অবধি কোনো হাফ সেঞ্চুরি পাননি। গতকাল অবশ্য শুরুটা ভালোই করেছিলেন। উইকেটে থিঁতু হয়েছিলেন। কিন্তু, ৩০ রান করেই তিনি শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। শেষ ছয় ইনিংসে মুমিনুল করেন মাত্র ৭৭ রান। বোঝাই যাচ্ছে, ব্যাট হাতে ধুঁকছেন অধিনায়ক।
