ভোটারদের যা আকৃষ্ট করতে পারবে

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৩

বিপ্লব বিশ্বাস

 

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটার উপস্থিতি বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে কম ভোটার উপস্থিতিকে গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট পড়েছে সর্বোচ্চ ৭৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ। আর গড়ে ভোট পড়েছে ২৭ শতাংশ। এই গড় ভোটের হার অবশ্যই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। জাতীয় ও স্থানীয় ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি; প্রচারণাসহ সার্বিক পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আসার অনুকূল পরিবেশও বজায় ছিল। তারপরও ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে প্রার্থী বেশি সংখ্যক ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। ভোটের হার কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। কাজেই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের একটি উপনির্বাচনেও ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ।  

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সব শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষের চিন্তা-ভাবনায়ও পরিবর্তন দেখা দেয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মাথাপিছু আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুত্ ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন অব্যাহত আছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী তেমন বড়ো কোনো জাতীয় সমস্যা দেশে নেই। সাধারণ মানুষ কাজ করতে পারছে, রোজগারও করতে পারছে। একইসঙ্গে জীবনযাত্রার উন্নয়নও হচ্ছে। যে কারণে রাজনীতি বা নির্বাচনের প্রতি সাধারণ মানুষের তেমন আগ্রহ নেই। এছাড়া নতুন ভোটার অর্থাত্ যুবসমাজ বর্তমানে ইন্টারনেটের প্রতি এত বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে যে, তাদের মধ্যেও রাজনীতি বা নির্বাচন আকর্ষণীয় কোনো বিষয় নয়। এ অবস্থায় মানুষের মধ্যে রাজনীতি বা নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করতে হলে, রাজনৈতিক দলগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে। নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করতে হবে। শুধু বিরোধিতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে সহযোগিতা ও গঠনমূলক রাজনীতির পথে হাঁটতে হবে। না হলে বাস-ট্রাক ভাড়া করে, খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করে বা টাকা দিয়ে জনসভা ও মিছিলে প্রচুর লোকসমাগম দেখানো যাবে; কিন্তু ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আনা যাবে না বা রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়বে না।

যেহেতু রাজনীতি ও নির্বাচনের প্রতি জনগণের আগ্রহ কমে যাওয়া একটি রাজনৈতিক সমস্যা, কাজেই সুস্থ ধারার রাজনীতিই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে পরিচালিত রাজনীতি এবং মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশই দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুকে অবজ্ঞা করে এদেশে কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারবে না। একইভাবে ব্যাপক দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে রাজনীতির প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাও নম্ভব নয়।  তবে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বড়ো কোনো জাতীয় সমস্যা দেখা দিলে দেশবাসী অবশ্যই ঘরে বসে থাকবে না। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে মানুষ কখনো ভুল করে না। দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের মঙ্গলের জন্যই দেশের মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিজ নিজ নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে ভূমিকা রাখতে হবে জনগণকেও।

ফরিদপুর