২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৫

আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। নিহতদের মধ্যে একজন কিশোর ও এক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি। গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সেখানকার এক বাসিন্দার বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় ইসরাইলি বাহিনী। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি সেনারা। এতে দুই জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইয়াজান আবু তাবেক, অপরজন ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য তারেক বাদোয়ান।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে আহমাদ ক্বানবা নামে এক ব্যক্তির ঐ বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আক্রান্ত হলে গুলি চালানো হয়। তবে জেনিন শহরের গভর্নর আকরাম রাজৌব বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী বিক্ষোভস্থলের পাশে দাঁড়ানো পুলিশ সদস্যকেও গুলি করে মেরেছে। ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, তিনি কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি।

একই দিন জেরুজালেমের ওল্ড সিটি এলাকায় ইসরাইলি পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান আরেক ফিলিস্তিনি। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ঐ ফিলিস্তিনি গুলি ছুড়লে পালটা জবাব দেওয়া হয়। এর আগে বুধবার রাতে হেবরন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে ১৭ বছর বয়সি কিশোর মোহাম্মদ আল হাদ্দাদকে গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী।

ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকট নিরসনে জানুয়ারির শেষ দিকে ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রস্তাবকে একতরফা ‘ইসরাইলি স্বার্থ রক্ষার’ পরিকল্পনা আখ্যা দেয়। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লীগও ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু ঐ পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকে ইসরাইল তাদের দখলকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনি বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।