নারীর প্রতি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমাজ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২২

পুরুষ সমাবেশে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল নারীর বিষয় নয়, এটা সকলের বিষয়। নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারই নয়, এতে সমাজের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে। তবে সময় হয়েছে আমাদের পাড়া-মহল্লায় পুরুষ সমাবেশ করে পুরুষদের সচেতন করা। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি না থাকলে জরিমানা করতে হবে। গতকাল শুক্রবার মিরপুর-১ এর উপশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত ‘নারী-পুরুষ বাঁধো জোট নারী সহিংসতা হোক প্রতিরোধ’ শীর্ষক পুরুষ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন ‘কর্মজীবী নারী ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, নারীর প্রতি খারাপ আচরণ, উত্ত্যক্ত, হয়রানির ঘটনা ঘটেই চলছে। নারীর প্রতি সহিংসতার সবচেয়ে খারাপ স্তর হলো নারীর প্রতি ধর্ষণের ঘটনা। নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল নারীর বিষয় নয়, এটা সকলের বিষয়। নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

তিনি বলেন, এখন সময় হয়েছে আমাদের পাড়া-মহল্লায় পুরুষ সমাবেশ করে পুরুষদের সচেতন করা। তিনি আরো বলেন, নারী নির্যাতন বিষয়ে গ্রাম্য শালিসে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে। নারী ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্য আইন এবং দুই আঙ্গুলের পরীক্ষা আইন বাতিল করতে হবে। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে যেখানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি থাকবে না সেখানেই জরিমানা করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহীন আনাম বলেন, আসুন সবাই মিলে শপথ করি সমাজ থেকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করি এবং নারী ও পরুষ উভয় উভয়কে সম্মান করি।

সমাবেশে কর্মজীবী নারীরা বলেন হাইকোর্টের নির্দেশনা ২০০৯ পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করতে হবে। নারীর জন্য উপযুক্ত নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নারীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনে উদ্যোগী হতে হবে।

সমাবেশে সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন কর্মজীবী নারীর সহসভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নাট্য ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র নির্দেশক নাদের চৌধুরী এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন কবি ও কথাসাহিত্যিক রোকেয়া ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক ও সঞ্চালনা করেন কর্মজীবী নারীর সমন্বয়ক রাজীব আহমেদ।