এক মাস পর আসামি গ্রেফতার
বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর উত্তরায় বাসকাউন্টার কর্মী কাজী গোলাপ হোসেন খুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। প্রায় ক্লুহীন এ হত্যাকাণ্ডে আসামি মো. হূদয়কে এক মাস পর গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার কথা স্বীকার করে হূদয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সমকামিতায় বাধা দেওয়ায় গোলাপকে খুন করেন হূদয়।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. কামরুজ্জামান জানান, গত ২৭ জানুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানার ১৪ নম্বর সেক্টর, ১০ নম্বর রোডের ৩ নম্বর বাড়ির সপ্তম তলার ছাদের একটি রুম থেকে কাজী গোলাম হোসেনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে গলা ও পেট কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করে হত্যাকারীর ব্যবহূত জ্যাকেট, জুতা, চাদর, শিল-পাটাসহ অন্যান্য আলামত। তিনি জানান, মামলার পর বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি হূদয়কে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর শ্যামপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
জবানবন্দিতে হূদয় জানান, তিনি একজন অটোরিকশাচালক। রিকশা চালানোর পাশাপাশি শহরে বিভিন্ন রাস্তায়, ট্রেনে ছিনতাই এবং চুরি করে থাকেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন প্রকারের মাদক সেবন করেন। ঘটনার দিন হূদয় অটোরিকশার ব্যাটারি বিক্রি করে তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। মধ্যরাতের দিকে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখানে দেখতে পান তার পকেটে যে টাকা ছিল তা নেই । এরপর বাস কাউন্টারে গিয়ে লালমনিরহাট যাওয়ার জন্য তিনি মো. গোলাপ হোসেনকে একটি টিকিটের ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। কাউন্টার মাস্টার গোলাপ হোসেন তাকে বলেন, এখন টিকিট নেই; পরের দিন তাকে বাসে উঠিয়ে দেবেন এবং রাতে থাকার জন্য তার বাসায় নিয়ে যান। বাসায় তারা খাটে শুয়ে পড়েন। শোয়ার কিছুক্ষণ পর হতেই গোলাপ হোসেন তার গায়ে হাত দেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরেন। বারবার না করার পরও একই কাজ করায় আসামি ঘরে থাকা শিলপাটা দিয়ে রাগের মাথায় ভিকটিমের মুখে আঘাত করে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে গলায় ও পেটে কোপ দেন। বাথরুমে গিয়ে হাত পরিষ্কার করে মৃতদেহ বিছানার চাদর দিয়ে এবং মুখ বালিশ দিয়ে ঢেকে দেন। আসামি তার একটি চাদর, সোয়েটার ও জুতা ফেলে রেখে যান। যাওয়ার সময় ভিকটিমের পকেটে থাকা ৩০০ টাকা এবং রুমের টেলিভিশন নিয়ে রুমের দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যান। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া টিভি কদমতলীর শ্যামপুরের পালপাড়া এলাকার একটি চায়ের দোকান হতে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান।
