কেবল হইহুল্লোড় নয়, ভোটের প্রচারে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ডান্ডা পেটা’ মন্তব্য ঘিরে রীতিমতো ধস্তাধস্তি হলো ভারতের লোকসভায়। গতকাল শুক্রবার শাসকবিরোধী এমপিদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা ও হাতাহাতির জেরে সোমবার পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন স্পিকার ওম বিড়লা। এরই মধ্যে আজ দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের একটি শব্দ এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীর মতো আচরণ করছেন না। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।
দিল্লির বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে রাহুল বলেন, ‘ছয় মাস পর দেশের যুবসমাজ নরেন্দ্র মোদিকে ডান্ডা মেরে মেরে দেশছাড়া করবেন।’ এরপর গতকালের অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেন রাহুল। জবাব দিতে ওঠেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। কিন্তু তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে রাহুলের ঐ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন।
হর্ষ বর্ধন বলেন, ‘আমাকে ক্ষমা করবেন। রাহুল গান্ধীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমি তার নিন্দা করতে চাই। দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার তীব্র নিন্দা জানাই।’ স্পিকার ওম বিড়লা হর্ষ বর্ধনকে ঐ প্রসঙ্গ ছেড়ে রাহুলের প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাতেও থামেননি। তার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কংগ্রেস এমপিরা। স্পিকারের চেয়ারের সামনে গিয়ে তুমুল হট্টগোল-বিক্ষোভ শুরু করেন। হর্ষ বর্ধনের বিরুদ্ধে চলতে থাকে স্লোগান। এর মধ্যেই তামিলনাড়ুর কংগ্রেস এমপি মানিকম ঠাকুর শাসক দলের বেঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। দ্বিতীয় সারিতে বক্তব্য রাখছিলেন হর্ষ বর্ধন। সামনের সারি টপকে তার কাছে গিয়ে শাসাতে থাকেন। তখন বিজেপি এমপিরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে আনেন। এরই মধ্যে কংগ্রেস এমপিদেরও হইচইও চলতে থাকে। পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার।
দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন
আজ শনিবার দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কাছে রীতিমতো আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নির্বাচন।
নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশ জুড়ে আন্দোলনের কারণে বিজেপির ভরাডুবি হবে বলে বিরোধীরা যেভাবে প্রচার চালাচ্ছে, বিজেপির গুরুদায়িত্ব হয়ে পড়েছে সেই কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেওয়ার। নির্বাচন ঘিরে অমিত শাহ ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ফল জানতে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের দিল্লির ৭০ আসনের বিধানসভা নির্বাচনে ৬৭টি আসন পায় আম আদমি পার্টি। বিজেপি পায় বাকি তিনটি আসন। কংগ্রেস কোনো আসনই পায়নি।
ইত্তেফাক/এসআর
