সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম মহানগরীর যত্রতত্র প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে কয়েক হাজার ট্রাক, মিনিট্রাক। নগরীর অপরিসর রাস্তাঘাট এবং সড়কসমূহের কিনার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই সব পণ্যবাহী যানবাহনকে নগরীর ট্রাফিক বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা।
চট্টগ্রামে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নিতে বন্দরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকে প্রায় ৬/৭ হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং ট্রেইলার। বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে পণ্য আনা-নেওয়ায় নগরীর ভেতর দিয়ে চলাচল করে কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাক। অন্যদিকে নগরীর অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২ হাজার মিনিট্রাক ও পিকআপ ভ্যান জাতীয় প্রাইভেট ট্রান্সপোর্ট। সেই সঙ্গে কদমতলীকেন্দ্রিক প্রায় ১ হাজার ৫০০ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ট্রাকগুলোও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপেক্ষমাণ থাকে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, বন্দরের নিমতলি এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটিমাত্র আন্তঃজিলা ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে যার নাম পানামা ট্রাক টার্মিনাল। ১৯৯৫ সালে এটি চালু হয়। পরিচালনা করা হয় লিজে। এই টার্মিনালটিতে ট্রাক রাখা যায় মাত্র ৩০০টি। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বে-টার্মিনাল নামে প্রায় ১ হাজার একর ভূমিতে যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, সেখানে একটি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। ১ লাখ বর্গমিটারের এই টার্মিনালটি তৈরি হতে অন্তত দেড়-দুই বছর লাগবে বলে তারা মনে করছেন। বর্তমানে সেখানে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। টার্মিনালটি তৈরি হয়ে গেলে সেখানে লং ভেহিক্যাল, ট্রেইলার, ট্রাক এবং কাভার্ডভ্যান মিলিয়ে প্রায় ৫/৬ হাজার পণ্যবাহী যানবাহন রাখা যাবে বলে তারা আশা করছেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জোহা ইত্তেফাককে বলেন, এ মুহূর্তে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর অক্সিজেন এলাকার পাশে কুলগাঁওয়ে প্রথম ফেইজে ৮ একর ভূমিতে একটি বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্তমানে সেটির ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। দ্বিতীয় ফেইজে এই টার্মিনালের জন্য আরো ৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের ট্রাক-বাসের জন্য শহরের দক্ষিণে নগরীর বাইরে এবং ঢাকার ট্রাক-বাসের জন্য সিটি গেট পেরিয়ে নগরীর বাইরে দুটি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে চসিকের।
সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস ইত্তেফাককে বলেন, সিডিএর হাতে বর্তমানে কোনো ধরনের টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। আগের চেয়ারম্যান অক্সিজেনের কাছে একটি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন, পরে সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সিটি করপোরেশন নিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে সেটির ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দর ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা এলাকাসহ মহানগরীর আশেপাশে ১৭টি প্রাইভেট আসিডির কনটেইনার পরিবহনে নিয়োজিত ১১ হাজার ট্রেইলার ও লং ভেহিক্যাল রাখার জন্য মূলত কোনো ধরনের টার্মিনাল বা জায়গা নেই। ফলে সেগুলো বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তার পাশেই সারিবদ্ধ করে রাখা হয়। প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নিয়ে বেরিয়ে আসে কমপক্ষে ৫ হাজার ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। তার মধ্যে ৭০০ ট্রেইলার পণ্যভর্তি কনটেইনার নিয়ে বেরিয়ে আসে। বে-টার্মিনালের ট্রাক টার্মিনাল একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। রাখার জায়গা না পেয়ে বহু আন্তঃজিলা ট্রাক রাস্তার পাশে কিংবা কোনো গ্যারেজে তাদের ট্রাক-কাভার্ডভ্যান অপেক্ষমাণ করে রাখে। তিনি বলেন, বন্দরের পানামা ট্রাক টার্মিনালের পাশে লোকাল ট্রাকসমূহ রাখার জন্য একটি ছোটো টার্মিনাল করেছে বন্দর ট্রাক সমবায় মালিক সমিতি। তাতে মাত্র ২০০টি ট্রাক রাখা যায়।
