সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা নেই!

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:১৮

খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

খালিয়াজুরীতে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রায় প্রসব জটিলতার মা ও শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।  খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে বেশির ভাগই অর্থনৈতিক দৈন্যতার শিকার ও অসচেতন। তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা একেবারেই কম। এখানকার অনেক গর্ভবতী মা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। চেষ্টা চালিয়েও সহজে তাদেরকে নিয়মিত গর্ভকালীন চেকআপের আওতায় আনা যাচ্ছে না। গর্ভকালীন চেকআপ না নেওয়া মায়েরাই প্রসব জটিলতায় ভোগেন বেশি। প্রসবকালীন সময়ে অত্যধিক জটিলতা নিয়ে যখন তারা আসেন তখন অনেক ক্ষেত্রে ও গাইনি ডাক্তার আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি তথা সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখানকার একমাত্র সরকারি এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে একটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে তাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই এখানে প্রসব জটিলতায় মা ও শিশুমৃত্যু অনেকটা অপ্রতিরোধ্যই রয়ে যাচ্ছে। খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া জব্বার জানান, অন্য যে কোনো উপজেলার চেয়ে এই উপজেলায় মা ও শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ এখানে মা ও শিশুমৃত্যু রোধে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এ জনপদে মায়েদের প্রসবকালীন সময়ে জটিলতা দেখা দিলে স্রষ্টার নাম নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। আর উন্নত চিকিত্সা নিতে হলে এখান থেকে জেলা সদর কিংবা অন্যান্য স্থানে পাড়ি দিতে হয় অন্তত ৫০ কিলোমিটারের পথ। তাও আবার এখানে নেই অ্যাম্বুলেন্স অথবা দ্রুতগামী কোনো যানবাহন।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম জানান, সরকারি নিয়মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মায়েদের নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য গাইনি ও অবস বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের কথা রয়েছে। কিন্তু এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন মিটিংয়ে বলা হয়। কিন্তু কাজ হয় না।