আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সের মধ্যে যে কেউ কিডনি দান করতে পারে। বাংলাদেশে ১৯৮২ সাল থেকে কিডনি ডায়ালাইসিস ও সংযোজন সেবা চালু হয়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কিডনি রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। সে তুলনায় জীবিত কিডনি দানকারীর অভাবে রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ কিডনি প্রতিস্থাপনে সফল বাংলাদেশ। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ লোককে আমরা মৃত ব্যক্তির কিডনি দিয়ে বাঁচাতে পারি। কিন্তু মানুষের সচেতনতা, ধর্মীয় অজ্ঞতা, অনাগ্রহের কারণে এখনো কিডনি দানের বিষয়টি ভালো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। গতকাল শনিবার কিডনি ফাউন্ডেশন, সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বাংলাদেশ এবং কোরিয়া ইউনিভার্সিটি আনাম হসপিটালের উদ্যোগে আয়োজিত মরণোত্তর অঙ্গদান ও সংযোজন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
তারা বলেন, প্রতি বছর ৪০ হাজার মানুষের কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায় এবং পরে তারা মারা যায়। এদের মধ্যে ২০ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগের চিকিত্সা পায়। বাকি ৮০ শতাংশ মানুষই চিকিত্সা সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বে ৬০ থেকে ৭০ ভাগের বেশি মানুষ মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপন এখন আর কঠিন কাজ না। আবার ডায়ালাইসিস করেও ভালোভাবে চলা সম্ভব। একজন মৃত ব্যক্তির কিডনি দানের কারণে দুই জন রোগী ভালো হয়ে উঠতে পারে। এগুলো মানুষকে বুঝাতে হবে। মানুষের মধ্যে এখনো কিডনি দান নিয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ একটি নতুন জীবন পেলেই আমাদের সফলতা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, একজন মৃত ব্যক্তি হার্ট, লিভার, কিডনিসহ আটটি অঙ্গ চাইলে দান করতে পারে। যার কারণে আরো অনেক জীবন বেঁচে যেতে পারে। ইমামদের এ বিষয়ে সাধারণ মুসলমানদের বোঝাতে হবে। ইসলামে যে এসব বিষয়ে কোনো বাধা নেই সে বিষয়ে মানুষ জানলে সচেতন হবে।
কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রোটারি ক্লাব অব ঢাকা রয়েলের প্রেসিডেন্ট মো. জাহিদ হোসেন, রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর এম খাইরুল আলম, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর লায়ন শহিদুল ইসলাম, ইনার হোইলের মহসিন রেজা প্রমুখ।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। একজনের অঙ্গপ্রতঙ্গ দিয়ে যে আরেকজন বেঁচে থাকতে পারে সে বিষয়ে বুঝাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ডা. হারুনুর রশিদ একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে বর্ণনা দেন। এছাড়া তিনি সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যে মানুষ মরণোত্তর কিডনি দান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সে বিষয়ে তিনি তুলে ধরেন।
