বিশ্ব এখন আতঙ্কিত নূতন করোনা ভাইরাস দ্বারা। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান হইতে ছড়াইয়া পড়া এই ভাইরাসে শনিবার পর্যন্ত সর্বমোট ৭২২ জন মৃত্যুবরণ করিয়াছে; ভাইরাসটি ছড়াইয়া পড়িয়াছে ৩০টিরও বেশি দেশে। ঘোষণা করা হইয়াছে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা। বাংলাদেশে এই রোগ এখনো শনাক্ত করা না গেলেও চীনের সহিত নানাবিধ যোগাযোগ থাকায় আমরাও এই রোগ বিস্তারের হুমকিতে রহিয়াছি। সরকারের পক্ষ হইতে নানাবিধ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে। শুধু করোনা ভাইরাস নয়, সাম্প্রতিক দশকগুলিতে সারা বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেও নানাবিধ রোগব্যাধির বিস্তার ঘটিয়াছে। ইহার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল: এইচআইভি/এইডস, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, নিপাহ, জিকা ইত্যাদি। এক গবেষণায় দেখানো হইয়াছে, ১৯৭০ সালের পর বৈশ্বিকভাবে আলোচিত নূতন রোগ ৩২টি এবং ইহার মধ্যে ১৮টি রোগ বাংলাদেশে শনাক্ত হইয়াছে। সারা বিশ্বেই নূতন নূতন রোগের আবির্ভাব ঘটিতেছে। এক সময় যাহা ছিল প্রাণীর রোগ, তাহাতে এখন আক্রান্ত হইতেছে মানুষ। তেমন একটি রোগ হইল সোয়াইন ফ্লু। ইহা মূলত শূকরের রোগ; কিন্তু এখন মানুষে ছড়াইয়া থাকে। কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন হইয়া নূতন ভাইরাস হয়, এইগুলি পূর্বের রূপটির তুলনায় বেশি শক্তিশালী হইয়া থাকে। আবার কিছু ভাইরাস অন্য প্রাণীর মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে; কিন্তু মানুষের সংস্পর্শে আসিলে তাহা প্রাণঘাতী হইয়া দাঁড়ায়।
কিছু রোগ আবার একেবারেই নূতন, যেমন—নিপাহ, এইচআইভি, বার্ড ফ্লু ইত্যাদি। আবার কিছু রোগ বহুদিন অনুপস্থিত ছিল, আবার নূতন করিয়া তাহা হাজির হইতেছে, যেমন—এনথ্রাক্স। ১৮টি রোগের ঐ তালিকার প্রথম রোগটি হইল ‘জাপানিজ এনকেফালাইটস’, ১৯৭৭ সালে প্রথম এই দেশের মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত হয়, এই রোগের বাহক মশা। সর্বশেষ দেশের মানুষ আক্রান্ত হইতেছে ‘ক্যানডিডা আউরুস’ নামক ছত্রাকে। এই ছত্রাক ঔষধ প্রতিরোধী। সাধারণত বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিত্সাধীন রোগীরা ইহাতে আক্রান্ত হইতেছে। আরো কিছু রোগের নাম তালিকায় রহিয়াছে, যেগুলি নিয়া আলোচনা কম হয়। যেমন ২০১৩ সালে শনাক্ত হওয়া নোরো ভাইরাস বা ২০০০ সালের লেপটোসিরোসিস নিয়া তেমন আলোচনা হয় নাই। এই রোগ দুইটি প্রাণী হইতে মানুষের দেহে আসে। এই রকম কত রোগ প্রাণী হইতে মানুষের দেহে আসে তাহার কোনো সঠিক হিসাব নাই। তবে এই পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জীবাণু দ্বারা মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে। এইসব জীবাণুর শতকরা ৬১ ভাগের উত্স প্রাণীজগত্। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ যত প্রাণিজগতের কাছাকাছি যাইতেছে তত বেশি রোগ সংক্রমণ ঘটিতেছে। ধারণা করা হয়, নূতন করোনা ভাইরাসটির উত্স উহানের একটি বন্যপ্রাণীর বাজারে। ফলে আমরা বুঝিতে পারিতেছি, বন্যপ্রাণী হইতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখিতে হইবে। নূতন নূতন রোগ মোকাবিলায় বিশ্বকে এক হইয়া কাজ করিতে হইবে। রোগ গবেষণা ও প্রতিরোধে একে অন্যকে সাহায্য করিতে হইবে।
