আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ কোনো সমাবেশে আমরা বাধা দেব না। যদি সেখানে সহিংসতার উপাদান যুক্ত হয় আন্দোলন, সমাবেশ, বিক্ষোভের মাধ্যমে তাহলে সেটার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’ গতকাল শনিবার বিকালে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত দলীয় সংসদ সদস্য এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়রদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন তারা করে করুক। তারা কার বিরুদ্ধে আন্দোলনটা করছে? আমি নীতিগত প্রশ্ন করছি, যাদের বিবেক আছে তাদের কাছে বিষয়টা আমি আপিল করছি, আন্দোলনটা তারা কার বিরুদ্ধে করছে? বেগম জিয়াকে তো সরকার কারান্তরীণ করেনি? বেগম জিয়াকে এই সরকার মামলাও দেয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলা হয়েছে। এই মামলার বিচারও হচ্ছে উচ্চ আদালতে। এটা রাজনৈতিক মামলা নয়, এটা করাপশনের মামলা। আমি ড. কামাল হোসেনকে বলতে চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অজুহাতে আগামী দিনে কোনোরকম সহিংসতার চেষ্টা করা হলে কঠোরভাবে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে’। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন। আমরাও বলছি তারা রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তারা আন্দোলন করতে চান করবেন; সরকার হিসাবে আমাদের জনগণের জানমাল রক্ষার দায়দায়িত্ব আছে।’
ঢাকার দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়র ও ঢাকা মহানগরের দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জমা দেওয়ার পর তাদের পরবর্তী কাজ হবে—তৃণমূল এর মূল পর্যায় থেকে সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের আন্দোলন ঠেকানোর জন্য আমাদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করা দরকার। সংগঠনের বিরুদ্ধে, দলের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে আজকে যে ষড়যন্ত্র সেটাও প্রতিরোধ করতে হলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা সবাই একমত। এই লক্ষ্যে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখান থেকে কিছু সিদ্ধান্ত আমরা কার্যনির্বাহী সভায় রিকমেন্ডেশন আকারে পাঠাব।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মুকুল বোস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য আমিরুল আলম মিলন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসসহ দলীয় সংসদ সদস্যরা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।
