সেই পুরনো দৃশ্য। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সংগ্রামের চিত্র রাওয়ালপিন্ডিতেও বদলায়নি। প্রথম দিন নাজুক ব্যাটিংয়ের পর গতকাল দিনভর নির্বিষ বোলিংয়ে মূর্ত ছিল বাংলাদেশ। তামিম-মাহমুদউল্লাহরা উইকেট বিলিয়ে আসা উইকেটেই ব্যাট হাতে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা রীতিমতো শাসন করলেন বাংলাদেশের বোলারদের। রুবেল হোসেন, এবাদতদের এলোমেলো বোলিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে রান পাহাড়ে চড়তে যাচ্ছে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের সংগ্রহ।
বাবর আজম-শান মাসুদের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে গতকাল দিন শেষে ৩ উইকেটে ৩৪২ রান সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান। বাবর আজম ১৪৩ ও আসাদ শফিক ৬০ রানে অপরাজিত আছেন।
বল হাতে বাংলাদেশের জন্য আশা জাগিয়েছিলেন শুধু আবু জায়েদ রাহী ও তাইজুল ইসলাম। দিনের শুরুতে রাহীর বোলিংয়েই পাকিস্তানকে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে আবিদ আলীকে (০) ফেরান রাহী। দ্বিতীয় উইকেটে শান মাসুদ ও আজহার আলী ৯১ রানের জুটি গড়েন। সেইও জুটি ভেঙেছেন ডানহাতি পেসার রাহী। ২৩তম ওভারে পাক অধিনায়ক আজহার আলী ৩৪ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। কয়েক ওভার পরই বাবর আজম ফিরতে পারতেন। তাইজুলের বলে ১ রানে থাকা বাবর ক্যাচ দিয়েছিলেন। মিড অফে ক্যাচ ফেলেন এবাদত। ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি করেই বাংলাদেশকে সেই ক্যাচ মিসের মূল্য বুঝিয়ে দিলেন বাবর।
ব্যক্তিগত ৮৬ রানে ক্যাচ দিয়েছিলেন শান মাসুদ। রুবেলের বলে ক্যাচও ধরেছিলেন উইকেটকিপার লিটন দাস। কিন্তু বুঝতেই পারেননি ক্যাচ ধরেছেন! তাই আউটের আবেদনও করেননি। জীবন পাওয়া শান মাসুদ ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেছেন। সেই তাইজুলের বলেই তিনি বোল্ড হয়েছেন ১০০ রান করে। ২০৫ রানে ৩ উইকেট পতনের পরের সময়টা বাংলাদেশকে আর কোনো সুযোগ দেননি বাবর আজম ও আসাদ শফিক। বেশ শাসন করেই খেলেছেন তারা। শেষ সেশনে ১৩৬ রান তুলেছেন দুই জনে। তাদের জুটিটাও অবিচ্ছিন্ন রয়েছে ১৩৭ রান যোগ করে। বাংলাদেশের রাহী ৬৬ রানে ২টি, তাইজুল ১১১ রানে ১টি উইকেট নেন। ১৪.৫ ওভারে ৭৮ রান দিয়ে এবাদত, ১৭ ওভারে ৭৭ রান দিয়ে রুবেল উইকেট শূন্য ছিলেন।
আজ তৃতীয় দিনে যত দ্রুত পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হবে, ততই এই ম্যাচে বাংলাদেশের টিকে থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। তবে সে জন্য বল হাতে অনেক সুশৃঙ্খল হতে হবে রুবেল-এবাদতদের।
