তৌহিদ আজিজ
অবশেষে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৬ জনকে হত্যা করা সেই থাই সেনাসদস্য। কোরট শহরের একটি শপিং মলের বেইজমেন্টে ১৭ ঘণ্টা লুকিয়ে থাকার পর শনিবার কমান্ডো অভিযানে তিনি নিহত হন। এ সময় সেখান থেকে কয়েক জন জিম্মিকেও উদ্ধার করা হয়। তাকে হত্যার পর মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, থাই সেনার কেন এই উন্মত্ততা? অনেকে আবার বলছেন, তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে এই রহস্যের অনেক কিছুই অন্তরালে থেকে যেতে পারে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কোংচিপ তানত্রাওয়ানতি বলেছেন, ‘আমরা জানি না কেন সে হঠাত্ করে এত মানুষকে হত্যা করল। এর পেছনের কারণই-বা কী?’ তিনি বলেন, এটা স্রেফ উন্মত্ততা। কোনোভাবেই এটা মেনে নেওয়া যায় না। সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে তদন্তের পর। তবে বন্দুকধারী এ ঘটনা ঘটানোর আগে নিজের ফেসবুক পেইজে লিখে গেছেন, ‘মৃত্যু সবার জন্যই অনিবার্য।’ এ সময় সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা বোঝাতে নিজ হাতে বন্দুকের একটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর এক ফাঁকে তিনি আবার অনলাইনে লেখেন, ‘আমার কি এই অবস্থা থেকে নিজেকে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত?’ থাই মিডিয়াগুলো বলছে, তিনি নাক্ষণ রাচাইছমার কাছে একটা সেনা ঘাঁটিতে কাজ করতেন। এটি রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে। হামলার আগে আরো একটি পোস্টে তিনি (জাকরাপানথ) লেখেন, তিনি বের হচ্ছেন প্রতিশোধ নিতে, প্রতিহিংসার আগুনে তিনি জ্বলছেন। কিন্তু কী কারণে তার এই প্রতিহিংসা, তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি। আর এ কারণেই প্রশ্ন উঠছে, তিনি মারা যাওয়ায় হয়তো অনেক প্রশ্নের জবাব মিলবে না। যদিও পুলিশ বলছে, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে, সব ক্লু বেরিয়ে আসবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বক্তব্য, তাকে যদি জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা যেত, তাহলে অনেক প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর বেরিয়ে আসত।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডগুলো কেন ঘটানো হয়েছে, তার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এর জন্য ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা বলেছে, ধারণা করা হচ্ছে, জুনিয়র ঐ কর্মকর্তার সঙ্গে তার কমান্ডিং অফিসারের চরম অসন্তুষ্টি ছিল। সূত্রটি আরো জানায়, মানুষ চরম ক্রোধের বশে কাণ্ডজ্ঞানহীন হয়ে পড়লেই এমন উন্মত্ত হয়ে উঠতে পারে, যা হামলাকারীর ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট থেকেও অনেকটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
