ট্রফির জন্য প্রাণান্ত লড়াই

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০৮

স্পোর্টস রিপোর্টার

বোলাররা তাদের কাজটা দারুণভাবে শেষ করেছিলেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা আরও একবার মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন। লড়াইটা সহজ হওয়ার কথা ছিল, সেটাকেই কঠিন বানিয়ে ফেললেন ব্যাটসম্যানরা। চোট নিয়ে আরো একবার লড়াই করতে নেমে পথ দেখাচ্ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। কিন্তু তিনি ফিরে যাওয়ার পর আকবর আলী ছাড়া আর কেউ ভরসা ছিলেন না।

বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের জন্য প্রাণান্ত লড়াই করছিল। লড়াইটার শেষ ফল পক্ষে আসুক, আর নাই আসুক, লড়াইয়ে কোনো খাদ ছিল না। সেই লড়াইয়ের ফলেই এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৮ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। এর আগে ভারত ১৭৭ রানে অলআউট হয়।

বড়ো মঞ্চ। লক্ষ্যটা ছোটো হলেও পারিপার্শ্বিক চাপে সেটা ‘বড়ো’ হয়ে যাওয়াটা অসম্ভব কিছু ছিলো না মোটেও। তবে সব চাপ একপাশে রেখে বাংলাদেশ শুরুটা করেছিল দুর্দান্ত। তানজিদ হাসান তামিম আর পারভেজ হোসেনের অর্ধশত রানের জুটির কল্যাণে লক্ষ্যটাকে ছোটো মনে হচ্ছিল ক্রমেই।

বিপর্যয়ের শুরু তখনই। রবি বিষ্ণয়ের করা ওভারের শুরুতেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তামিম। ওভারের শেষ বলে আবারও সেটাই করতে গেলে লং অনে থাকা

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা ভারত শুরুতেই হারায় ওপেনার দিব্যাংশ সাক্সেনাকে। দলীয় নবম রানে অভিষেক দাসের শিকার হয়ে তার ফেরার পর অবশ্য লড়াকু স্কোরের কক্ষপথেই ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সামনে থেকেই দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন সেমিফাইনালের সেঞ্চুরিয়ান জশস্বী জেসওয়াল। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহককে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিলক ভার্মা।

তবে এ সময় বাংলাদেশের সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং হাত খুলতে দেয়নি জেসওয়াল-তিলককে। দলীয় ১০২ রানে তানজিম হাসান সাকিবের বলে শরিফুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিলক ফিরলে ভাঙে ৯৪ রানের জুটি। এরপর অধিনায়ক প্রিয়ম গার্গকে (৭)  থিতু হওয়ার আগেই ফেরান রাকিবুল হাসান।

১১৪ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ধ্রুব জুরেলকে সঙ্গে নিয়ে আবারও ইনিংস মেরামতে লেগে যান জশস্বী। দলীয় ১৫৬ রানে শরীফুলের লাফিয়ে ওঠা বল পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

বিশ্বকাপের শুরু থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত টপঅর্ডারের সাফল্য ভারতের মিডল আর লোয়ার মিডল অর্ডারকে তেমন কোনো পরীক্ষার মুখে পড়তেই দেয়নি। গতকাল ফাইনালে যখন পড়ে, দারুণভাবেই ব্যর্থ হয় ভারতীয় যুবারা। ফলে ১৫৬-৪ থেকে ১৭৭ রানে অলআউট হয় প্রিয়ম গার্গের দল।