ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ আসনে নৌকার কাছে বেকায়দায় ফখরুল

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৫

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ভোট যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই পরিবর্তন হচ্ছে ভোটার ও ভোটের মাঠের প্রেক্ষাপট। গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও সভাসহ নানা কার্যক্রমে ব্যস্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থীরা।

প্রেস্টিজ ইস্যু হওয়ায় নানা প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর জনমন জয় করে আসনটি ধরে রাখতে চাইছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।

স্বাধীনতার পর থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের দখলে থাকলেও শুধু ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয়। এরপর থেকে ২০০৮ থেকে এই আসনটি আবারো আওয়ামী লীগের দখলে চলে আসে। ২৩ ভাগ হিন্দু ভোটারদের কাছে টানতে না পারলে ফের হারতে পারেন বিএনপির হেভিওয়েট এ প্রার্থী।

হিন্দু ভোটারদের কাছে টানতে না পারলে বিএনপির পক্ষে আসনটি দখলে নিতে পারবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের কাছে টানতে বিএনপি নানা কৌশল করছে। কিন্তু বিগত জামায়াত জোট সরকারের আমলে হিন্দু সম্প্রদারে উপর হামলা, নির্যাতনের কারণে অনেকটাই কোণঠাসা বিএনপি।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তরুণ প্রজন্মের নেতা সাহেদুল ইসলাম আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় সাবেক এমপি খাদেমুল ইসলামের ছেলে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে ঠাকুরগাঁওয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য রমেশ চন্দ্র সেনের পক্ষে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন। এতে করে হঠাত্ নৌকা মার্কার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে যা বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

৯১ ও ৯৬ সালে ঠাকুরগাঁও সদর আসনটিতে প্রথম নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের কাছে হারেন ফখরুল। ১৯৯৬-২০০১ আ’লীগ ক্ষমতাসীন থাকার সময় খাদেমুল ইসলাম মারা যান। পরে উপ-নির্বাচনে বর্তমান এমপি রমেশ চন্দ্র সেন নির্বাচিত হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল প্রথম ২০০১ সালে বর্তমান এমপি রমেশ চন্দ্র সেনকে হারান। ২০০৮ সালে রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে ফের হারেন মির্জা ফখরুল। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলে আবারো আসনটি রমেশ সেনের দখলে চলে আসে।

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফখরুল ইসলাম বিএনপির মহাসচিব হওয়ায় নিজ আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন। তেমনই প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনও এগিয়ে রয়েছেন নিজ সম্প্রদায় হিন্দু ভোটারদের কাছে। গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও সদর আসনে ৫৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন মির্জা ফখরুল।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নৌকা মার্কার প্রার্থী রমেশ সেন বলেন, জনগণ এলাকায় উন্নয়ন দেখেই নৌকাকে ভোট দিবে। এই আসনে বিগত ১০ বছরে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তা জোট সরকারের আমলে কখনোই সম্ভব হয়নি আর হবেও না।

রমেশ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে এই এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আইটি পার্ক চালু, অর্থনৈতিক জোন, মহিলা হোস্টেল চালু করা হবে।’

ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, আমার এই আসনে হিন্দু মুসলিমের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয় তাহলে দেশের শান্তির দিকে লক্ষ করেই সকলে ধানের শীষে ভোট দিবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় পরিচালিত। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আমরা। তবুও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা ভোটে এসেছি, শেষ পর্যন্ত থাকব। মানুষ ভোট দিতে পারলেই স্বৈরাচারী সরকারের পতন অনিবার্য। ৩০ ডিসেম্বর মানুষ ভোট দিয়ে বিজয় নিয়ে আসবে ধানের শীষের।

ঠাকুরগাঁও সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, এই আসনে ১ লাখ ২০ হাজার ভোট বাদ দিয়ে নির্বাচনী হিসাব করতে হয় বিএনপির প্রার্থীকে। এরপর বর্তমান নৌকার প্রার্থী হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাই এবার এই হিসাব আরও কঠিন হবে ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য।