বসন্ত আসতে এখনো চার দিন বাকি। কিন্তু মেলায় যেন বসন্তের আবহ। এখনই মাথায় ফুলের টায়রা, হলুদ বা বাসন্তী শাড়ি পরে মেয়েদের দল বেঁধে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। বাসন্তী শাড়ি পরে, খোঁপায় পলাশ ফুল গুঁজে মেয়েদের ঘুরে বেড়ানো মেলায় উত্সবের রং বুলিয়ে দেয়। ডেমরা থেকে আসা দুই বান্ধবীর সঙ্গে কথা হয় অন্যপ্রকাশের স্টলে। মায়া আক্তার ও তানিয়া আক্তার দুজনেই মুড়াপাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। তারা কিনলেন হুমায়ূন আহমেদের ‘বৃষ্টি বিলাস’ এবং তবারক হোসেনের বই। বললেন, ‘পহেলা বৈশাখে আসার সুযোগ পাই কি না, জানি না। সেজন্য আজই বসন্তের সাজে এসেছি। মেলায় বই কিনব আর ছবি তুলব—এটাই শখ।’
নাতনি নিথিলাকে কাঁধে নিয়ে মেলা ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন নানা মো. আওলাদ। বাড়ি রাজশাহী। বললেন, ‘এসেছি নাতনি আর মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে। জামাই আর মেয়ের সঙ্গে মেলায় এসেছি ঘুরতে। ওরা সবাই বই কিনছে, আমি নাতনিকে নিয়ে ঘুরছি। খুব সুন্দর হয়েছে এবারের বইমেলা।’
মেলা আট দিন পেরিয়ে এলো। সব স্টলেই চলে এসেছে নতুন বই। স্টলে স্টলে জমে উঠেছে বেচাকেনা। এই আট দিনে মেলায় ৯৫৭টি নতুন বই এসেছে। বাঙালি যে আবেগপ্রবণ জাতি, তার প্রমাণ রেখে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বই এসেছে কবিতার। এর সংখ্যা হচ্ছে ২৬১। এরপর রয়েছে উপন্যাস ১৮৯টি এবং অবধারিতভাবেই এরপরে রয়েছে গল্পের বইয়ের স্থান। এর সংখ্যা ১১৫। মননশীল কোটায় প্রবন্ধের বইয়ের সংখ্যা ৫৭। শিশুতোষ বইয়ের সংখ্যা ৫১। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত নতুন বইয়ের সংখ্যা ৩৪ আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রকাশিত বই ৩৩টি। এছাড়া জীবনীগ্রন্থ এসেছে ২৯টি, সায়েন্স ফিকশনের বই প্রকাশিত হয়েছে ২৫টি। গবেষণাগ্রন্থ ১৯, ছড়া ১৪, বিজ্ঞানবিষয়ক ১৬, ভ্রমণ ১৫, ইতিহাস ১৮, রাজনীতি ২, চিকিত্সাবিষয়ক ৩, অনুবাদ গ্রন্থ ১০, অভিধান রয়েছে ২টি।
অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ‘গ্রাফিক নভেল’-এর সপ্তম খণ্ড
বইমেলার বাংলা একাডেমি অংশে আরেক পাঠকপ্রিয় স্টল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে ‘গ্রাফিক নভেল মুজিব’ নিয়ে আছে শিশুদের দারুণ কৌতূহল। কার্টুনের মাধ্যমে সহজ ভাষায় লেখা বইটির ‘অ্যাকশন ডে’ শিরোনামের সপ্তম পর্ব এসেছে মেলায়।
নতুন বই
গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৬টি। এর মধ্যে পাঞ্জেরী এনেছে শাহরিয়ারের ‘বাবু ১১’, শরীফুল হাসানের ‘জোজোর কাণ্ড’, তৌহিদুল ইকবাল সম্পদের ‘গুপ্ত সংঘ’; মিজান পাবলিশার্স এনেছে আলী ইমামের ‘ছোটদের শিশুবন্ধু শেখ হাসিনা’; কাকলী প্রকাশনী এনেছে রকিব হাসানের ‘কিশোর মুসা রবিন, গোয়েন্দা কাহিনি সমগ্র-২’; প্রতিভা প্রকাশ এনেছে আমীরুল ইসলামের ছড়া ‘হাসে অনুবাদে’; কথাপ্রকাশ এনেছে সৈয়দ আজিজুল হকের ‘কথাশিল্পী মানিক’, বেগম আকতার কামালের শতাব্দী সঞ্চারী কবিতা :‘দিশা ও বিদিশা’; রোদেলা প্রকাশনী এনেছে স্বকৃত নোমানের ‘মুসলিম মনন ও দর্শন অগ্রনায়কেরা’; অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্সে তুষার আবদুল্লাহর ‘ভাষাকন্যা’; মাতৃভাষা প্রকাশ এনেছে এম ওবায়দুর রহমানের ‘দুঃখ সুখের মিডিয়া’; সময় প্রকাশন প্রসূন রায়ের ‘রাশিয়ার পরিব্রাজক’, ধ্রুব এষের ‘অনু এবং ছয় দফা খাতা’; অনন্যা এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘বাবান ও টুনটুনি পাখি’; অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে ইশতিয়াক আহমেদের ‘শিল্পী স্টুডিও’ প্রভৃতি।
মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান
গতকাল মেলামঞ্চে আলোচনা করা হয় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মিল্টন বিশ্বাসের লেখা ‘উপন্যাসে বঙ্গবন্ধু’ বইটি নিয়ে। এতে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রশান্ত মৃধা। কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি হালিম আজাদ, শাকিরা পারভীন, বায়তুল্লাহ কাদেরী ও নাজমুল হুসাইন বিদ্যুত্। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রফিকুল ইসলাম, ডালিয়া আহমেদ, শুচিতা সপর্যা। সংগীত পরিবেশন করেন ফকির আজমল শাহ, মো. আনোয়ার হোসেন, কাঙ্গালিনী সুফিয়া, আমজাদ দেওয়ান, মমতা দাসী বাউল ও প্রশান্ত সরকার।
লেখক বলছি
গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন পারভেজ হোসেন, ওবায়েদ আকাশ, মোস্তফা হোসেইন ও খায়রুল বাবুই।
