অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আমরা যেকোনো মূল্যে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে চাই। তাই আরো চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধু রূপালী ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে বেসরকারি খাতে। আর শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন অন্য তিন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শেয়ার পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’ গতকাল রবিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি যেসব ব্যাংক রয়েছে, তার মধ্যে একটির শেয়ার বাড়ানোসহ পাঁচটি ব্যাংক আমরা পুঁজিবাজারে নিয়ে আসব। ইতিমধ্যে বাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের শেয়ার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। পাশাপাশি নতুনভাবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডকে (বিডিবিএল) নিয়ে আসা হবে। এরপর অগ্রণী, জনতা এবং সর্বশেষ সোনালী ব্যাংককে নিয়ে আসা হবে। এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে পাঁচটি ব্যাংকের প্রতিনিধি থাকবে এবং সমন্বয় করবে আইসিবি।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি মালিকানাধীন চার ব্যাংকের শেয়ার একযোগে পুঁজিবাজারে ছাড়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ভালো মৌল ভিত্তির কোম্পানির শেয়ার অফলোডের কোনো বিকল্প নেই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর মধ্যেই এগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা হবে। আশা করা যায়, অক্টোবরের পরে যাব না। সোনালী ব্যাংককেও আমরা নিয়ে আসব। তবে এটাতে একটু সময় লাগবে। বাকিগুলো আমরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে তালিকাভুক্ত করে ফেলব। এই কাজগুলো হয়তো দুই পর্যায়ে হতে পারে।’
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন, আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল অর্থনৈতিক এলাকায় কোথাও কোনো খারাপ সংকেত দিচ্ছে না। আমাদের একটি মাত্র খাত (রপ্তানি) এখনো নেতিবাচক আছে। তবে একটি খাত দিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি বিবেচনা করা যাবে না। প্রত্যেক দেশেই সব খাত যে সমভাবে চলবে এমনটি নয়। সারা বিশ্বের অর্থনীতির বিবেচনায় আমাদের অর্থনীতির অবস্থা ভালো।’ তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ দরকার। একটা জায়গা নিয়ে সব সময় আমরা চিন্তাগ্রস্থ, সেটি হচ্ছে পুঁজিবাজার। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে আমরা এই মুহূর্তে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করে চলেছি। অর্থনীতি যেখানে উঠানামা করে, সেগুলোতে আমরা হাত দিব। এজন্য আমাদের ব্যাংক-বিমা খাত দেখতে হবে। এগুলো ঠিক করতে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো দূর করা হচ্ছে। আইনি কাঠামোতে সমস্যাগুলো দূর করা হয়েছে। এনবিআর ও ব্যাংকিং খাত দেখার জন্য দুটি নির্দিষ্ট বেঞ্চ হয়েছে, যার ফলে আমাদের মামলার সংখ্যা কমে যাবে। অপরাধী অরপরাধ করলে মামলা করতে হবে এবং সেটার রায় দ্রুত হবে। এতে করে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে।’
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে বিদ্যুত্ খাতের লাভজনক সাতটি প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাতটির মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান নতুনভাবে আনা হবে, বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের পরািমণ বাড়ানো হবে। বাজার শক্তিশালী করতে সরকার সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তবে বাজার বাজারের মতো থাকবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকার করে না।
